বর্ষা এলেই দেশে বৃক্ষরোপণের উৎসব শুরু হয়: শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়া, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের গাছ লাগিয়ে ছবি তোলা, হাজার হাজার চারা রোপণের ঘোষণা। কিন্তু উৎসব শেষে কতটি চারা বাঁচে, কতটি পরিচর্যার অভাবে শুকিয়ে যায়, তার হিসাব খুব কমই প্রকাশ হয়। জাগো নিউজে প্রকাশিত কলামে এই প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মুহিবুল হাসান রাফি। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখকের যুক্তি, উন্নয়নের নামে সড়ক সম্প্রসারণ, ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে বহু পরিণত গাছ কাটা হয়, আবার পাশে কয়েকটি চারা লাগিয়ে ক্ষতিপূরণ দেখানো হয়। একটি পরিণত গাছের ছায়া, শেকড় আর পাখির আশ্রয় কয়েক মাসে তৈরি হয় না, নতুন চারা সবগুলো টিকেও থাকে না। তাই গাছ কাটার অনুমোদনের আগে বিকল্প নকশা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বড় দুর্বলতা সংখ্যার মোহ। কতটি চারা বিতরণ বা রোপণ হলো, তা সহজে প্রচার করা যায়; এক বছর পর কতটি বেঁচে আছে, সেই যাচাই দুর্বল। দশ হাজার চারা লাগিয়ে অধিকাংশ হারানোর চেয়ে উপযুক্ত জায়গায় এক হাজার চারা লাগিয়ে বড় করে তোলা বেশি কার্যকর।
লেখকের প্রস্তাব, কোনো প্রতিষ্ঠান বৃক্ষরোপণ করলে আগেই ঠিক করতে হবে কোন জায়গায় কোন প্রজাতি উপযোগী, কে পরিচর্যা করবে, পানির ব্যবস্থা কী, আর চারা নষ্ট হলে আবার কে লাগাবে। প্রতিটি রোপণস্থলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থাকবে, নির্দিষ্ট সময় পর গাছের অবস্থা যাচাই হবে এবং ফল জনসমক্ষে প্রকাশ হবে।
শহরে বিদ্যুতের তার, ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন, সড়কের নিরাপত্তা আর ভবিষ্যৎ অবকাঠামো না ভেবে চারা লাগালে পরে তা সরাতে হয়; স্থানীয় মাটি ও পরিবেশের সঙ্গে মানানসই প্রজাতি বেছে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। শিক্ষার্থী ও পাড়ার সংগঠন রোপিত চারার খোঁজ রাখতে পারে, তবে সড়কের পাশের গাছ ও নগর উদ্যান রক্ষার দায় কর্তৃপক্ষেরই।
অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা, সবুজ এলাকা দখল বা বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে লেখক লিখেছেন, প্রতি বছর কতটি গাছ লাগানো হলো তার পাশাপাশি এক, তিন ও পাঁচ বছর পর কতটি বেঁচে আছে, সেই হিসাবও প্রকাশ করতে হবে।
ছবি: Robbieross123 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); চারা রোপণের প্রতীকী ছবি
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)