যুক্তরাজ্যের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ খামারে এখন কোনো না কোনো বাড়তি ব্যবসা আছে; তাই প্রশ্ন আর বহুমুখীকরণ করা হবে কি না নয়, বরং এরপর কী। ফার্মার্স উইকলির এক মতামত কলামে এ কথা লিখেছেন গ্রামীণ জমি বিষয়ক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান রুরাল সলিউশনসের পরিচালক স্যালি অরমিস্টন (Sally Ormiston)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর যুক্তি, অনেক পরিবারের কাছে বহুমুখীকরণ এখন বাড়তি আয়ের চেয়ে পরের প্রজন্মের জন্য টিকে থাকার শক্তি গড়ার বিষয়; তাই ছোটখাটো জোড়াতালি ছেড়ে এটিকে ব্যবসার কৌশলের অংশ করতে হবে। এর মানে এই নয় যে প্রতিটি এস্টেটে বিয়ের অনুষ্ঠানের জায়গা বা প্রতিটি পরিত্যক্ত গোলাঘরকে অবকাশযাপনের বাড়ি বানাতে হবে। তাঁর মতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো ব্যবসার বদলে একটি ধারণা দিয়ে শুরু করা।
শুরুর প্রশ্ন হওয়া উচিত পরিবারটি আসলে কী অর্জন করতে চায়: কৃষিবাজারের ওঠানামার বাইরে স্থির আয়, পরের প্রজন্মের জন্য সুযোগ, প্রাকৃতিক আবাস বা ঐতিহ্য রক্ষা, কিংবা এলাকার মানুষের উপকার। খামারের দোকান, কটেজ ও ক্যাম্প সাইটের এখনো জায়গা আছে, তবে সেগুলো আর একমাত্র উত্তর নয়; নমনীয় কর্মক্ষেত্র, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ বাজার, শিক্ষা, বিনোদন ও সৃজনশীল ব্যবসায় চাহিদা তৈরি হচ্ছে, লিখেছেন তিনি।
অরমিস্টনের মতে পরিকল্পনা নীতি, যাতায়াত, পানি-বিদ্যুৎ, প্রতিবেশ, ঐতিহ্য ও অবকাঠামোই ঠিক করে কী বাস্তবে সম্ভব, অথচ অনেক সময় এসব প্রশ্ন ওঠে অর্থ আর সময় খরচ হয়ে যাওয়ার পর। আগেভাগে যাচাই করলে পরিকল্পনাটি টিকবে কি না, এর চেয়ে ভালো সুযোগ আছে কি না, বা কোনো অচল বাধা আছে কি না তা বড় বিনিয়োগের আগেই জানা যায়।
তাঁর চোখে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বহুমুখীকরণ এখন একক প্রকল্প নয়, চলমান কৌশল: নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পরিবেশের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করতে পারে, নতুন কর্মক্ষেত্র স্থানীয় কর্মসংস্থান ও নির্ভরযোগ্য আয় আনতে পারে, প্রাকৃতিক আবাস তৈরি বাণিজ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি চলতে পারে। সফল হয় সেই প্রকল্পগুলোই, যেগুলো জায়গার চরিত্রের সঙ্গে মেলে, প্রকৃত চাহিদা মেটায় এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর দাঁড়ায়।
ছবি: Andrew Hill / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)