ভারত ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে, কিন্তু সার খাতে স্বনির্ভরতার পরের ধাপ হলো এর পেছনের জ্বালানি ও কাঁচামাল নিশ্চিত করা। রুরাল ভয়েসে প্রকাশিত এক কলামে এ যুক্তি দিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত হিন্দুস্তান উর্বরক অ্যান্ড রসায়ন লিমিটেডের (এইচইউআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শিবপ্রসাদ মহান্তি (Siba Prasad Mohanty)। মতামত লেখকের নিজের।
তাঁর দেওয়া হিসাবে, ২০১৪-১৫ সালে ইউরিয়া উৎপাদন ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টন, ২০২৪-২৫ সালে ৩ কোটি ৬ লাখ টন; ছয়টি নতুন বা পুনরুজ্জীবিত কারখানা ৭৬ লাখ ২০ হাজার টন সক্ষমতা যোগ করেছে। তবু ২০২৫-২৬ সালে চাহিদা ছিল প্রায় ৪ কোটি টন, উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি টন; চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এখনো আমদানি করতে হয়।
লেখকের মতে দুর্বল জায়গা প্রাকৃতিক গ্যাস। ইউরিয়া কারখানাগুলো দিনে প্রায় ৫৫ এমএমএসসিএম গ্যাস ব্যবহার করে, যা সার খাতকে ভারতের সবচেয়ে বড় গ্যাস ব্যবহারকারী বানিয়েছে, আর এই গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করা এলএনজি। পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রতি এমএমবিটিইউ ১২ থেকে ১৪ ডলারে থাকা গ্যাসের দাম এখন প্রায় ১৮ ডলার। ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর বিঘ্নে উপসাগরীয় এলএনজির সরবরাহ চাপে পড়ে এবং বিশ্বে ইউরিয়ার দাম লাফিয়ে বাড়ে।
মহান্তি এইচইউআরএলের দুটি পথের কথা লিখেছেন। বিহারের বারাউনিতে এনটিপিসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে তৈরি সবুজ অ্যামোনিয়া আর এনটিপিসির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধরে রাখা কার্বন ডাই-অক্সাইড দিয়ে 'সবুজ ইউরিয়া' তৈরির পরিকল্পনা। সিন্দ্রিতে কোল ইন্ডিয়ার সঙ্গে দেশি কয়লা গ্যাসে রূপান্তর করে ইউরিয়া তৈরির সমীক্ষা চলছে। প্রতিটির সক্ষমতা ধরা হয়েছে বছরে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার টন; গোরক্ষপুরে প্রস্তাবিত গ্যাসভিত্তিক কারখানাসহ এইচইউআরএলের সক্ষমতা প্রায় ৩৮ লাখ থেকে ৭৬ লাখ ২০ হাজার টনে উঠতে পারে।
নীতিগত সহায়তার কথাও বলেছেন তিনি: জুলাইয়ে অনুমোদিত জাতীয় ইউরিয়া বিনিয়োগ নীতি ২০২৬, সবুজ ইউরিয়া প্রকল্পে সার বিভাগের আগ্রহপত্র আহ্বান, কয়লা গ্যাসীকরণে ৩৭,৫০০ কোটি রুপির প্রকল্প এবং কেজিপ্রতি ৪৯.৭৫ থেকে ৬৪.৭৪ রুপিতে সবুজ অ্যামোনিয়ার দরপত্র। তাঁর মতে গ্যাস কেন্দ্রেই থাকবে, তবে গ্যাস, কয়লা গ্যাসীকরণ ও সবুজ হাইড্রোজেনের মিশ্রণ ভারতের সার, আর তার মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তাকে বিশ্ববাজারের ঝুঁকি থেকে কিছুটা মুক্ত রাখবে।
সূত্র: Rural Voice



মন্তব্য
(০)