পরিবেশপদ্মায় জালে ধরা বিপন্ন শুশুক দৌলতদিয়ার মাছবাজারে নিলামে বিক্রি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটের আড়তে ১৫-১৬ কেজির একটি গাঙ্গেয় ডলফিন ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বন বিভাগের।
পরিবেশরাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটের আড়তে ১৫-১৬ কেজির একটি গাঙ্গেয় ডলফিন ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বন বিভাগের।
মৎস্য২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা হচ্ছে, নদীপারে বসছে ভাসমান হাট; দিনের অভিযান বিকেলে শেষ হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু জেলেরা।
মৎস্যমা ইলিশ সংরক্ষণের প্রথম ৯ দিনে রাজবাড়ীর পদ্মায় ৩১টি অভিযানে ২ লাখ ৮৮ হাজার মিটার জাল জব্দ ও ২১ জেলে আটক হলেও প্রকাশ্যে মাছ ধরা ও তীরে বিক্রি চলছে; মৎস্য বিভাগ বলছে, সার্বক্ষণিক পাহারার সক্ষমতা নেই।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নিমতলায় পদ্মার ভাঙনে জমি, বাগান আর পাকা বাড়ির অর্ধেক হারিয়েছেন গোলাম রসুল; পাঁচ বছরে উপজেলায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৮ পরিবারের মাত্র ৯১টি সহায়তা পেয়েছে।
পানি কমার সঙ্গে স্রোত বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নামোজগন্নাথপুর ও বাদশাহপাড়ায় তিন দিনে অন্তত সাড়ে তিনশ বসতবাড়ি ও শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে গেছে; ৭৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ পানি কমলে শুরু হবে বলছে পাউবো।
পরিবেশফরিদপুরের সদরপুরে শরতেও পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে বসতভিটা আর ফসলি জমি নদীতে যাচ্ছে; ঘরে তোলার আগেই আধাপাকা ধান কেটে গবাদিপশুর খাবার করছেন কৃষকেরা।
মৎস্যপদ্মায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার শুরুতে রাজবাড়ীর ৬,৩০৪ কার্ডধারী ইলিশ জেলের মধ্যে চাল বরাদ্দ ৫,৫৯২ জনের; বছরের পর বছর মাছ ধরেও কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে।
সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, শেরপুর ও ফরিদপুরে নদীভাঙনে বসতভিটা, স্কুল, মসজিদ ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে; শাহজাদপুরের এক ইউনিয়নেই প্রায় তিন হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
উজানের পানিতে পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ীর চরে ৩০৯ দশমিক ৫৯ হেক্টর ফসলি জমি ডুবেছে, সবজি ৪৫, মাষকলাই ৮৫, হলুদ ১০২ হেক্টরসহ; কসবা ও আলিমগঞ্জের কৃষকদের পটোল, শসা, করলা ও আগাম কপি পচে গেছে, কৃষি বিভাগ বলছে আল উঁচু করে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করা গেছে।
একসময় পদ্মার বুকে জাল ফেললেই উঠত রুপালি ইলিশের ঝাঁক। ভরা মৌসুমে নদীতে ব্যস্ততা বাড়ত জেলেদের, জমজমাট হয়ে উঠত নদীপাড়ের মাছের ঘাট। ইলিশ ধরেই চলত বহু পরিবারের সংসার। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পদ্মায় জাল ফেললেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না জেলেদের জালে। মাছ ধরতে সময় ও খরচ বাড়লেও কমেছে আয়।
টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডুবে গেছে সড়ক ও আবাদি জমি।
মৎস্য২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, আগের বছরগুলোতে এ সময় দিনে ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশ এলেও তখন সরবরাহ ২০ মণেও পৌঁছাচ্ছিল না; এক কেজির ইলিশ বিকোচ্ছিল ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, ক্রেতারা না কিনেই ফিরছিলেন।
মো. রাহুল শেখ