ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙন থামেনি। শরৎকালেও বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ইত্তেফাক জানায়, জমিতে থাকা আধাপাকা ও কাঁচা ধানও নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে; নিরুপায় কৃষকেরা ঘরে তোলার আগেই সেই ধান কেটে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঢেউখালী ইউনিয়নে পদ্মার তীরে শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পাশের চরনাছিরপুর ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁর তীরে বাবুরালি মোল্যার কান্দি, শিমুলতলী, নাজির শিকদার কান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। চরনাছিরপুরের কৃষক মো. জয়নাল বলেন, আর কয়েক দিন পেলেই ধান ঘরে তুলতে পারতেন; বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান গরুর খাবারের জন্য কেটে নিচ্ছেন।
ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, তাঁর চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে প্রায় ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চওড়া একটি এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে; জীবনে এমন ভাঙন দেখেননি। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে চরনাছিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্র, শতবর্ষী পিঁয়াজখালী হাট, কয়েকটি উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বাজার।
স্থানীয়দের ধারণা, বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাছিরপুর-ঝাউকান্দা হয়ে প্রায় ১৭ কিলোমিটার নদীশাসনের কাজ বন্ধ থাকায় স্রোতের গতিপথ বদলে সদরপুরের দিকে চাপ বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি মূল্যায়ন দরকার বলে তাঁরা মনে করেন।
সদরপুরের ইউএনও শরীফ শাওন বলেন, সরকার বিষয়টি জানে; পদ্মা নদীশাসনের প্রকল্প একনেকে তোলা হয়েছে এবং পর্যালোচনাধীন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ ও নদীশাসন না হলে বহু পরিবার জমি ও ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হবে বলে আশঙ্কা নদীপাড়ের মানুষের। প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের সদরপুর প্রতিনিধির।
ছবি: Asker Ibne Firoz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); নদীভাঙনের প্রতীকী ছবি
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)