রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নিমতলা গ্রামের গোলাম রসুলের একসময় ছিল পাঁচ বিঘা জমি, আম-লিচু-লেবুর বাগান আর ৩০টির বেশি মহিষ। পদ্মার ভাঙনে প্রায় সব হারিয়ে এখন তাঁর আছে দুই-তিন কাঠা জমি; সাত বছর আগে ২০ লাখ টাকায় তোলা পাকা বাড়ির অর্ধেক নদীতে, বাকিটাও ঝুঁকিতে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশীর জমিতে একটি কুঁড়েঘরে, জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
রসুলের মহিষের মধ্যে বেঁচে আছে মাত্র তিনটি; চার-পাঁচ বছর আগে হঠাৎ প্রায় ২০টি মহিষ মারা যায়। তিনি বলেন, আগে চাষাবাদ করতেন, মহিষ চরাতেন, এখন জমিজমা শেষ। সরকার থেকে এখনো কোনো সহায়তা পাননি, তাঁর বাড়ির কাছে জিও ব্যাগও পড়েনি। অন্য অনেকের অন্য জায়গায় জমি থাকায় তাঁরা চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর যাওয়ার জায়গা নেই।
নিমতলায় একসময় ২০০-২৫০ পরিবারের বসতি ছিল; বছরের পর বছর ভাঙনে বাড়িঘর, মন্দির আর জমি বিলীন হয়েছে। প্রতিবেশী প্রশান্ত কুমার মণ্ডল জানান, এ বছরও পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি ভেঙেছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে ২০২১ সাল থেকে পাঁচ বছরে গোদাগাড়ীতে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮৮টি পরিবার, সহায়তা পেয়েছে ৯১টি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ভাঙন হয়েছে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাইরের এলাকায়, ওপারের চর আষাড়িয়াদহেও; জরুরি জায়গায় কাজ হয়েছে, তবে সব এলাকা রক্ষার মতো বরাদ্দ আসে না।
ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, নিমতলায় দুটি বাড়ির অংশ নদীর ওপর ঝুলে থাকতে দেখে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলতে বলা হয়েছে এবং তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলনে আছে। ক্ষতিগ্রস্তরা নিজের জমি থাকলে ঘর তৈরির টিন পাবেন, জমি না থাকলে বন্দোবস্তের আবেদন করতে হবে; ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে বলা হলেও তাঁরা এখনো করেননি। তাঁর মতে, ভিত ছাড়া বালুমাটিতে তোলা এসব বাড়ি জিও ব্যাগে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে না।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার




মন্তব্য
(০)