পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ বাড়ায় রাজশাহীর পবা উপজেলার চরে আবাদ করা বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিনিধি শফিকুল ইসলামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিন পানিতে ডুবে থাকায় পটোল, শসা, করলা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটো নষ্ট হয়েছে বলে কৃষকেরা জানান; শুধু পবা নয়, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলাতেও ফসল তলিয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ীতে হঠাৎ বন্যাকবলিত ফসলি জমি মোট ৩০৯ দশমিক ৫৯ হেক্টর: শাকসবজি ৪৫ দশমিক ২৪, মাষকলাই ৮৫ দশমিক ৩৯, রোপা আমন ১১ দশমিক ৪৬, রোপা আউশ ২৫, হলুদ ১০২, পেঁপে ২৫, পেয়ারা ১০ এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা ৫ দশমিক ৫০ হেক্টর। বাঘাতেই সবচেয়ে বেশি—সবজি ২৮, মাষকলাই ৬২, হলুদ ১০২ হেক্টরসহ; গোদাগাড়ীতে সবজি ১০, মাষকলাই ১৭ ও রোপা আউশ ২৫ হেক্টর; পবায় সবজি ৭ দশমিক ২৪ ও মাষকলাই ৬ দশমিক ৩৯ হেক্টর।
রোববার দুপুরে পবার আলিমগঞ্জে দেখা যায়, আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর গাছ পচে গেছে; অনেকে নষ্ট খেত আবার তৈরি করছেন। কৃষক আকবর আলী জানান, তাঁর এক বিঘা পটোল, ১০ কাঠা শসা ও পাঁচ কাঠা ঝিঙে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; পচা পটোলগাছ তুলে ফেলতে হচ্ছে। ‘এখন যেটুকুন পটোলের গাছ ভালো আছে, সেটুকুনও তো মরে যাছে। তাহলে তো সবই শেষ। আমরা কী করে বাঁচব?’—বলেন তিনি।
কসবা এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলামের খেতে প্রায় সাত দিন পানি জমে ছিল; তাঁর ১০ কাঠা করে করলা, শসা ও লাউ, দেড় বিঘা কপি, ১৫ কাঠা পটোল ও পাঁচ কাঠা টমেটো ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁর হিসাবে টমেটোতে ১০ হাজার, পটোলে ৩০ হাজার, করলায় ১০ হাজার, শসায় ২০ হাজার, লাউয়ে ১৫ হাজার ও কপিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল; কৃষি বিভাগের লোকজন জমি দেখে গেলেও সহায়তা মেলেনি। শাহরিয়ার রহমানের প্রায় ১০ হাজার কপি নষ্ট হয়েছে, যা টিকলে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রির আশা ছিল; পটোলচাষি শামিম আল মামুনের ১৫ কাঠায় অন্তত দুই লাখ টাকার ক্ষতি।
আলিমগঞ্জ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক বলেন, উজান থেকে পদ্মার পানি বাড়ায় চর ডুবে ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; কৃষকেরা আল উঁচু করে ও পানি সরিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি ও পরিচর্যার পরামর্শ চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তাফা কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মার আশপাশের এলাকা এবার প্লাবিত হয়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে; ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো — প্রতিবেদন: শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী





মন্তব্য
(০)