বেকারত্ব যখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল, দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটালের লুঙ্গিলে মখিজে (Lungile Mkhize) ফিরলেন বাড়ির বাগানে। পিটারমারিৎজবার্গের এডেনডেলে পরিবারের জমিতে অল্প পুঁজিতে শুরু করে তিনি গড়েছেন লুগকোয়াবে অ্যাগ্রিক সলিউশনস (Lugcwabe Agric Solutions), যেখানে হয় পালং শাক ও লেটুস।
বাগানটির আয়তন ২৬৯ বর্গমিটার। ২০০০ সালে স্বামীকে হারিয়ে মানসিক শান্তি খুঁজতে এই বাগানে নেমেছিলেন মা থেম্বি। পরিবারের সবার দায়িত্ব ভাগ করা ছিল, যাতে খাবারের অভাব না হয়। ২০১৮ সালে মায়ের মৃত্যুর পর বাগানের ভার নেন মখিজে এবং একে পরিবারের খাবারের চেয়ে বেশি কিছু হিসেবে দেখতে শুরু করেন। অবশ্য তাঁর কথায়, ব্যবসাটিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন কেবল ২০২৬ সালে।
উমগুংগুন্দলোভু টিভিইটি কলেজে উদ্যোক্তা ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা পড়েছেন তিনি। বাজেট, আয়-ব্যয়ের হিসাব, নগদ অর্থ সামলানো ও সঞ্চয়ে সেই পড়া কাজে লাগছে। এখন বিক্রি হয় অনানুষ্ঠানিকভাবে। লেটুস তৈরি হতেই বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান তিনি। পালং কেটে দেন, ব্যস্ত ক্রেতার জন্য সুবিধা। এলাকায় অনেক কফির দোকান দেখে তাঁর ভাবনা, স্যান্ডউইচের জন্য সেখানেই লেটুসের ক্রেতা মিলতে পারে।
সবচেয়ে বড় বাধা আবহাওয়া ও পানি। তিনি বলেন, “কখনো গরম অসহ্য হয়ে যায়, ফসল বাঁচানোর মতো গ্রিনহাউস আমার নেই।” শুরু থেকেই পানি বড় সমস্যা। ফসল দেখতে খারাপ হলেই লোকসান, কারণ তাজা সবজির মান ক্রেতা চোখে দেখেই যাচাই করেন। মাসখানেক আগে উমসুন্দুজি পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনকোসিনাথি মাসোয়েউর কার্যালয় থেকে তিনি একটি পানির ট্যাংক উপহার পেয়েছেন।
এখন তিনি পোকা ও রোগ দমন ভালোভাবে শিখতে চান, কারণ বড় বাজারে সরবরাহের জন্য সেটা জরুরি বলে মনে করেন। সেচব্যবস্থা কিনে ঝাঁঝরির ওপর নির্ভরতা কমানোর ইচ্ছাও আছে। ভবিষ্যতে ডিমপাড়া মুরগি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে যাওয়া, কৃষি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের জায়গা দেওয়া এবং শিশুদের কেন্দ্রে গিয়ে চাষ শেখানোর পরিকল্পনা তাঁর।
প্রতিবেদক: ভাতেকা হালিলে, Food For Mzansi।
ছবি: SuSanA Secretariat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0), জিম্বাবুয়ের এক স্কুলের বাগানে পালং শাক, মখিজের জমির নয়
সূত্র: ফুড ফর মজানসি




মন্তব্য
(০)