বাজারে মরিচের দাম বাড়লে বাড়ির আঙিনা বা ছাদের টবের একটি-দুটি গাছই পরিবারের চাহিদার বড় অংশ মেটাতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা বলছেন শফিকুর রহমান, যিনি শফিক বিপ্লব নামে পরিচিত। পেশায় ডিপ্লোমাধারী কৃষিবিদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিক এক জাতের বন্য মরিচ সংগ্রহ করে নাম দিয়েছেন নয়ন মরিচ। জাগো নিউজ ২৪ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার চারা তিনি কুরিয়ারে দেশের নানা প্রান্তে পাঠিয়েছেন।
প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে পাহাড়ি ও সমতল বন, পানবরজ এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তিনি গাছগুলো সংগ্রহ করেন, কিন্তু তখন চারা তৈরি করতে পারেননি। সফল হন ২০১৯ সালে। তাঁর ধারণা, বন্য পাখির মাধ্যমে এ মরিচের বীজ ছড়ায়; পাখির আকর্ষণও তিনি লক্ষ করেছেন।
শফিকের দাবি, অনুকূল পরিবেশে চারা লাগানোর তিন মাস পর থেকে ফল আসে, গাছ সারা বছর মরিচ দেয়, ১০ থেকে ১২ বছর বাঁচে এবং প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। একটি গাছে মাসে আনুমানিক এক কেজি মরিচ পাওয়া যায়, সে হিসাবে দুটি গাছে একটি পরিবারের দরকারের বড় অংশ উঠে আসে। কাঁচা মরিচ গাঢ় সবুজ, পাকলে কমলা; ঝাল সাধারণ মরিচের চেয়ে কিছুটা বেশি।
ছাদ ও আঙিনার জন্য এর বড় সুবিধা ছায়া সহ্য করার ক্ষমতা। আধোছায়া ও কিছুটা স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, পাশের ভবনের কারণে রোদ কম পড়ে এমন ছাদেও বড় টবে গাছ ভালো হয়েছে বলে তিনি কয়েকজন ছাদবাগানির বাগানে দেখেছেন। টবে লাগাতে বড় টব, পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা আর জৈব উপাদানসমৃদ্ধ মাটির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
পরিচর্যায় তাঁর অভিজ্ঞতা, গাছটি রাসায়নিক সার ভালো সহ্য করে না, তাই তিনি জৈব সার দেন। কড়া রোদে পাতা লালচে হতে পারে, বছরের কিছু সময় পাতায় ভাঁজ পড়ে। বড় গাছে রোগ-পোকা সাধারণত দেখা যায় না, তবে চারায় মাইট দমন করতে হয়। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নিজের ১৫টি গাছ আছে; মসলা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানও তাঁর কাছ থেকে চারা নিয়েছে।
তবে আয়ু, মাসে এক কেজি ফলন আর সারা বছর উৎপাদনের হিসাব এখনো শফিকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ; বিভিন্ন পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষায় যাচাই হয়নি। মরিচটির নির্দিষ্ট বাজারদর বা বাণিজ্যিক উৎপাদনের হিসাবও নেই, তাই আপাতত এটি শখের বাগান আর আধোছায়ার ফাঁকা জায়গায় পরীক্ষামূলক চাষের মরিচ, নিশ্চিত লাভের ফসল নয়।
ছবি: Obsidian Soul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)