চারদিকে নোনা পানি, মাটিতেও লবণ, এমন জায়গায় সবজি চাষ ছিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলের মানুষের কাছে প্রায় অসম্ভব। এখন সেখানকার নারীরা বাড়ির আঙিনায় মাচায় সবজি ঝোলাচ্ছেন, বস্তায় আদা ফলাচ্ছেন, মাদা ও বেড পদ্ধতিতে তুলছেন পালংশাক, বেগুন আর ঢ্যাঁড়স। বার্তা২৪-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মৃত্যুঞ্জয় রায় খবরটি দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলি গ্রামের গৃহিণী দিপীকা রাণী বলেন, আগে সবজি লাগালে লবণে গাছ মরে যেত। বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি আঙিনায় পুকুর কেটে সারা বছর বৃষ্টির পানি ধরে রাখেন; সেই মিষ্টি পানিতে চলে খাওয়া, গৃহস্থালির কাজ আর সবজির সেচ। বেড, মালচিং, বস্তা, ভার্টিক্যাল টাওয়ার, টাওয়ারে ড্রিপ সেচ, আলোর ফাঁদসহ ১২টি পদ্ধতিতে চাষ করেছেন তিনি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজির বেশি সবজি স্বামীর হাত দিয়ে বাজারে পাঠান।
একই গ্রামের ইতি বিশ্বাস দিপীকার দেখাদেখি শুরু করেছিলেন। কয়েক দফা চারা মরে যাওয়ার পর সফল হয়েছেন; এখন ঢ্যাঁড়স, পুঁইশাক, বস্তায় আদা, উচ্ছে, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক আর লালশাক ফলাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, পদ্ধতিগুলো এমনভাবে সাজানো যাতে লবণপানি মাটিতে না লাগে, আর পুকুরের জমানো বৃষ্টির পানিই সেচের ভরসা।
উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা আর সুপেয় পানির সংকট কৃষির বড় বাধা, বিশেষ করে চিংড়িঘের ও নোনাপানির আধারের কারণে। আটুলিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশালতা জানান, উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নের জমিই লবণাক্ত; লিডার্সের সঙ্গে যৌথভাবে লবণসহিষ্ণু জাত, মাচা, মালচিং ও বস্তায় চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে প্রথাগত চাষ কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা প্রান্তিক কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধান ও সবজির বীজ উৎপাদন শেখাচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব কৃষির জন্য জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক বানানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং চাড়ি, কেঁচো ও গোবর কিনে দিচ্ছেন, যাতে পরে কৃষকেরা নিজেরাই তৈরি করতে পারেন।
তাঁর ভাষায়, স্থানীয় জ্ঞানের সঙ্গে বিজ্ঞান মিলিয়ে বসানো হয়েছে আর্দান টাওয়ার, ড্রিপ সেচ, মালচিং, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও সৌরচালিত আলোর ফাঁদ। নোনা উপকূলে পরিবারের সবজি আর বাড়তি আয়ের পথ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আঙিনার ছোট পুকুরে জমানো বৃষ্টির পানির ওপর।
সূত্র: বার্তা২৪




মন্তব্য
(০)