বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রংপুর কৃষি অঞ্চলের চর ও শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশে আন্তঃফসল পদ্ধতিতে শীতকালীন ফসলের আবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ঘাঘট, যমুনা ও করতোয়ার তীরে জমি তৈরি চলছে, জানিয়েছে বাসস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর ৮২ হাজার হেক্টরের বেশি চরের জমিতে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন ফসল হয়। কৃষক পর্যায়ে এর দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই বীজ বপন শুরু হবে। ডিসেম্বরের শেষে ফসল তোলা শুরু হবে এবং আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে, বর্ষার আগেই, পুরো কাজ শেষ হবে। তাঁর ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত সত্ত্বেও চরের শীতকালীন ফসলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল আছে।
নদীর চর ও তীরে থাকা ভূমিহীন, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এসব জমিতে আলু, স্কোয়াশ, কুমড়া, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, চিনাবাদাম, তিল, তামাক, কলা, নানা ডাল ও তরমুজ চাষ করেন।
ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের রূপান্তর প্রকল্পের পরামর্শক কৃষিবিদ ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, চরের চাষ এখন অত্যন্ত লাভজনক। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার বালুচরে আলু, কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, সরিষা, ডাল ও শীতের নানা শাকসবজি হচ্ছে, বিশেষ করে আন্তঃফসল পদ্ধতিতে। ডিএইর সহায়তায় অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে।
গঙ্গাচড়ার চর মহিপুরের নূর ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, কবিজা খাতুন ও মোরশেদা বেগম বাসসকে জানান, তাঁরা তিস্তার চরে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাউনিয়ার চর তালুক শাহবাজের বকতার আলী ও মোমেনা বেগম এবং ঢুষমারা চরের আব্দুল মালেক গত বছরের মুনাফার পর আবার মিষ্টিকুমড়ার বীজ লাগাচ্ছেন। নাগেশ্বরীর চর ডেবরিখোলা জানকারচৈড়ের আবু সাদ্দাম, আব্দুল হামিদ ও সাজেদুল ইসলাম জমি তৈরি শেষ করেছেন।
সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)