উত্তরাঞ্চলের প্রধান চাল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র বগুড়ার শেরপুরে এক মাসে মাঝারি ও সরু ধানের দাম মণ প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাবে মিলগেট থেকে খুচরা পর্যন্ত চালের কেজিতে ক্রেতাদের ৪ থেকে ৮ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, মাঝারি ধান মণ প্রতি ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় এবং সরু ধান ১৮০০ টাকা থেকে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় উঠেছে। এক মাস আগের ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চাল এখন ৫০ থেকে ৫৬ টাকা। সরু কাটারি চাল মিলে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকা এবং খুচরায় ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।
বগুড়া শহরের বাজারে রঞ্জিত চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কাটারি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলাওয়ের চালের দাম অবশ্য কিছুটা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে।
মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, ধানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। মিলমালিক আকরাম হোসেন জানান, খরচ বাড়ায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম মেলে না। খুচরা ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, পরিবহন, লোড-আনলোড ও দোকান চালানোর খরচ বাদ দিয়ে তাঁদেরও মুনাফা রাখতে হয়।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)-এর সম্পাদক কেজিএম ফারুক মনে করেন, কেবল খুচরা বাজারে নজরদারি না করে ধান কেনা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের খরচ ও মুনাফা খতিয়ে দেখা দরকার। নির্মাণশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক ও সবুজ মিয়া জানান, আয় না বাড়ায় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, তাঁদের দল নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকটের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)