চীনের কেনার গতি কমায় শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিনের ভবিষ্যৎ দর এই সপ্তাহে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমেছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া চুক্তির দাম ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে প্রতি বুশেল ১২ দশমিক ০৬ ডলার হয়েছে। ভুট্টা আগের মতোই, প্রতি বুশেল ৪ ডলার সাড়ে ৪২ সেন্ট।
অথচ এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) নিশ্চিত করেছে, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে সরবরাহের জন্য চীনের কাছে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন সয়াবিন বেসরকারিভাবে বিক্রি হয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির পর চীন কিনছে ঠিকই, তবে গতি কমেছে।
ওদিকে জোগান পর্যাপ্ত। কৃষি বিভাগের হিসাবে সয়াবিন তোলা হয়েছে ৮৮ শতাংশ, পাঁচ বছরের গড় ৮৪ শতাংশ। ভুট্টা তোলা হয়েছে ৭৪ শতাংশ। সয়াবিনের রেকর্ড ফলনের পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি। বেশিরভাগ ফসল এখন গোলায়, চাষি ও ব্যবসায়ীরা মজুত ও বিক্রির হিসাব করছেন। রেকর্ড ফলন আর চীনের কম চাহিদা মিলে শীতের আগে মজুত ভালোই থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিযোগিতার কথাও বলছেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এগ্রাডারের (AgRadar) প্রতিষ্ঠাতা জনি শিয়াং (Johnny Xiang) বলেন, ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের রিয়ালের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পরিবহন ভাড়ায় ব্রাজিলের সয়াবিন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেছে, ঠিক যখন সেখানকার চাষিরা বোনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চীনের ধীর কেনাকেও তিনি মার্কিন দামের ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে দেখছেন।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় লাভ পেয়েছে সয়াবিনই। চীনের শুল্ক তথ্যের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সয়াবিন ছাড়া অন্য মার্কিন কৃষিপণ্যের কেনা এ বছর সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমের পথে। জোয়ার, শূকরের মাংস ও দুগ্ধপণ্যে তেমন ঘুরে দাঁড়ানো দেখা যায়নি। অর্থাৎ চীনের চাহিদা কেন্দ্রীভূত সয়াবিনেই, যেখানে তাদের তেলকলগুলো আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
ছবি: Judd McCullum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0), ইলিনয়ে কম্বাইন থেকে তোলা সয়াবিন নামানো হচ্ছে
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)