আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা হাত গুটিয়ে রাখায় অক্টোবরে খাদ্যের দাম কিছুটা কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের খাদ্য মূল্যসূচকের গড় দাঁড়িয়েছে ১৩৩.৯ পয়েন্ট, সংশোধিত সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১.৬ পয়েন্ট বা ১.২ শতাংশ কম। তবে সূচকটি এক বছর আগের চেয়ে এখনও ৫.৯ শতাংশ বেশি, আর ২০২২ সালের মার্চের সর্বোচ্চ অবস্থানের চেয়ে ১৬.৪ শতাংশ নিচে।
পতনের মূল কারণ দানাশস্য। এই সূচক কমেছে ৪.৫ শতাংশ। টানা চার মাস বাড়ার পর গমের দাম পড়েছে, কারণ চাহিদা কম, আর্জেন্টিনায় ফলনের সম্ভাবনা ভালো এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে চালান সহজ হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তিন বছরের সর্বোচ্চে ওঠা ভুট্টার দামও নেমেছে। চাল চলেছে উল্টো পথে: ফসল তোলায় দেরি, খারাপ আবহাওয়া ও খরচ বাড়ায় চালের সূচক বেড়েছে ১.৬ শতাংশ।
মাংসের সূচক কমেছে ১.২ শতাংশ; শূকর, ভেড়া ও গরুর মাংসের দাম পড়লেও মুরগির দাম মোটামুটি একই আছে। মাখন ও পনিরের দাম কমায় দুগ্ধের সূচক কমেছে ১.১ শতাংশ, যদিও গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে। ভোজ্যতেলের সূচক বেড়েছে সামান্য, ০.৩ শতাংশ। জৈবজ্বালানি শিল্পের চাহিদায় সয়াবিন তেলের দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উত্থান চিনির। মাসের ব্যবধানে এর সূচক বেড়েছে ৬.৬ শতাংশ, গত অক্টোবরের চেয়ে ২৮.৮ শতাংশ বেশি, আর এটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এফএও বলছে, ব্রাজিলের প্রধান আখ অঞ্চলে বৃষ্টিতে কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হয়েছে। সঙ্গে ২০২৬/২৭ মৌসুমে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও থাইল্যান্ডের উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা আছে।
সামনের দিনের পূর্বাভাসও জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালে বিশ্বে দানাশস্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি ৯০ লাখ টন, যা ২০২৫ সালের রেকর্ডের চেয়ে কম হলেও ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চার মৌসুমের মধ্যে এই প্রথম চালের উৎপাদন কমতে যাচ্ছে: ২.৫ শতাংশ কমে ৫৫ কোটি ২০ লাখ টন। কারণ চাষির কম লাভ এবং এল নিনো-সংশ্লিষ্ট বৈরী আবহাওয়া। ২০২৬/২৭ মৌসুমে দানাশস্যের বাণিজ্য ৩.৩ শতাংশ কমে ৫০ কোটি ৭৭ লাখ টনে নামতে পারে, এর মধ্যে গমের বাণিজ্য কমবে ৮.৬ শতাংশ।
মজুত অবশ্য স্বস্তিদায়ক থাকবে বলে ধারণা; মজুত ও ব্যবহারের অনুপাত ধরা হয়েছে ৩২.৪ শতাংশ। দরিদ্র দেশগুলোর ছবি কঠিন। এফএওর হিসাবে ৪১টি দেশ ও অঞ্চলের বাইরের খাদ্য সহায়তা দরকার, এর ৩১টিই আফ্রিকায়। তীব্র ক্ষুধার প্রধান কারণ এখনও সংঘাত, আর এল নিনোর ক্ষতি ২০২৭ সালেও কয়েকটি অঞ্চলের ফসলে থাকবে বলে আশঙ্কা।
দক্ষিণ এশিয়ার ভাতনির্ভর দেশগুলোর জন্য বার্তাটি স্পষ্ট: এফএও ২০২৬ সালে চালের উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিচ্ছে, আর অক্টোবরেই চালের দাম বেড়েছে।
ছবি: Charles Knowles / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)