প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা সরকারি সহায়তা পান অনেক কম। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ওইসিডির অ্যাগ্রিকালচারাল পলিসি মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন ২০২৬ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩-২৫ সালে দেশটির প্রডিউসার সাপোর্ট এস্টিমেট ছিল খামারের মোট আয়ের গড়ে ৩.১ শতাংশ। জরিপের ৫৬ দেশে এই গড় প্রায় ১৩ শতাংশ।
এই সূচকে কৃষিনীতি থেকে কৃষকের কাছে যাওয়া অর্থ ধরা হয়, সরাসরি অনুদান এবং দেশের বাজারদরে প্রভাব ফেলা ব্যবস্থাও এর মধ্যে আছে। নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে সহায়তা খামার আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ, মিসরে ১২.৬ এবং পেরুতে ৬.৪ শতাংশ। ২০০০-০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তা ছিল ৭.৪ শতাংশ।
২০২৫ সালে বিশ্বে কৃষি সহায়তা ৯৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর প্রায় অর্ধেক এসেছে এমন ব্যবস্থায়, যা ওইসিডির চোখে বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি বিকৃতি ঘটাতে পারে: দেশের বাজারদর বাড়ানো, উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত অনুদান এবং কিছু উপকরণে ভর্তুকি। সংস্থাটি বলছে, এতে এমন উৎপাদনও উৎসাহ পেতে পারে, যা অন্যথায় বাণিজ্যিকভাবে টিকত না।
অ্যাগ্রিএসএর (AgriSA) সভাপতি উইলেম ডে শ্যাভোনস ভ্রুগট (Willem de Chavonnes Vrugt) এই বৃদ্ধিকে কোভিড-১৯ মহামারির পর ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশীয় খাদ্য উৎপাদনে সরকারগুলোর জোর দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, মুক্ত বাজারে অংশ নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি বেড়েছে, কিন্তু ভূরাজনীতির কারণে সেই সুযোগ ক্রমেই সীমিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন আরও বলছে, গবেষণা, উদ্ভাবন, অবকাঠামো ও পরিদর্শন সেবায় দেশটির সহায়তা ২০২৩-২৫ সালে কৃষি উৎপাদনমূল্যের গড়ে মাত্র ১ শতাংশ, ২০০০-এর দশকের শুরুতে যা ছিল ৩.৯ শতাংশ। দীর্ঘদিন কম বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি আটকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওইসিডি। আর উৎপাদকেরা যে সহায়তা পান তার ৯৭ শতাংশই চিনি আমদানি শুল্ক ও ডিজেল রেয়াতের মতো বাণিজ্য-বিকৃতিকর ব্যবস্থায়।
ডে শ্যাভোনস ভ্রুগট বলেন, সরকারি ব্যয়ের বিচার হওয়া উচিত অবকাঠামো, উৎপাদন ও রপ্তানিতে তার ফল দিয়ে। পল্লি উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও জিজ্ঞাসা করতে হবে, খরচ করা অর্থে আসলে কী অর্জিত হলো।
প্রতিবেদন: লিন্ডি বোথা (Lindi Botha)।
ছবি: NASA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)