কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে মিশিয়ে পোড়ানোর জন্য ফসলের অবশিষ্টাংশ বিক্রি হওয়ায় ভারতের হরিয়ানায় নাড়া পোড়ানো দৃশ্যমানভাবে কমেছে বলে একটি মাঠ গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে ডাউন টু আর্থ জানাচ্ছে, এই সুফল টিকবে কি না তা নির্ভর করছে আরও নির্ভরযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারত সরকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে কয়লার সঙ্গে জৈব পেলেট ও পৌর বর্জ্যের টরিফায়েড কয়লা মিশিয়ে পোড়াতে বলে: জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের আশপাশে ন্যূনতম ৭ শতাংশ, অন্যত্র ৫ শতাংশ। ন্যাশনাল বায়োমাস অ্যাটলাস অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ২২ কোটি ৮৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত জৈব অবশিষ্টাংশ হয়, যার বিদ্যুৎ সম্ভাবনা ২৮.৪৫ গিগাওয়াট, ২০২৬ সালের মে মাসের রেকর্ড চাহিদা ২৭০.৮ গিগাওয়াটের প্রায় এক-দশমাংশ।
অশোকা সেন্টার ফর আ পিপল-সেন্ট্রিক এনার্জি ট্রানজিশনের গবেষকেরা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ দিন ধরে পানিপথ, সোনিপত ও কর্নাল জেলায় ১৫৫ জনের ওপর জরিপ চালান: ১০০ কৃষক, ২০ জন সংগ্রাহক, ১৫ জন পরিবহনকারী ও ২০ জন প্রক্রিয়াজাতকারী।
নাড়া বিক্রি করে কৃষকের বাড়তি আয় হতে পারে, আর অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় অংশ নিলে রাজ্য একরে বছরে ১,২০০ রুপি প্রণোদনা দেয়। তবু ৬১ শতাংশ কৃষককে নাড়া সরাতে সংগ্রাহককে টাকা দিতে হয়েছে। গবেষণা বলছে, সমস্যা শেষ ধাপের পরিবহনে: স্থানীয় সংগ্রাহক কম, আর পরের ফসল বোনার আগে সময়ও অল্প। সব মিলিয়ে ৮৭ শতাংশ কৃষক নাড়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যের উন্নতির কথা জানিয়েছেন।
এই সরবরাহ শৃঙ্খলে গ্রামে কাজও তৈরি হচ্ছে: স্বল্পশিক্ষিত পুরুষদের জন্য মৌসুমি সংগ্রহের কাজ, আর প্রক্রিয়াজাত কারখানায় দক্ষ ও অদক্ষ নানা পদ। তবে নারীরা সেখানে কম, এবং যাঁরা আছেন তাঁরা মূলত প্রশাসনিক কাজে।
বাধা রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত মজুত না থাকা, ভেজা কাঁচামাল আর বর্ষায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত কঠিন হয়। অনিয়মিত সরবরাহে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে চলছে। কম ক্রয়মূল্য ও দেরিতে টাকা পাওয়া সমস্যা বাড়াচ্ছে, আর পরিবহনকারীদের চাপে ফেলছে জ্বালানির উচ্চ খরচ।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)