জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে আনুমানিক ৩০৫ বিলিয়ন ডলার দরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন তিন গুণ হলেও ২০৩৫ সাল নাগাদ চাহিদার মাত্র ২০-২৯ শতাংশ মিটবে। ডাউন টু আর্থ জানাচ্ছে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) অ্যাডাপটেশন গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬-এ এ কথা বলা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ধরলে ২০৩৫ সালে বার্ষিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৪২০ বিলিয়ন ডলারে। হিসাবটি মূলত সরকারি ও মিশ্র কর্মকাণ্ডের; বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ চাহিদা এতে নেই, যা ২০৩০-এর দশকে বছরে আরও ২৬০ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর একত্রে দরকার বছরে ৪৯-৫১ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালে উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে আন্তর্জাতিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন ছিল ২৮.২ বিলিয়ন ডলার; সরকারি অর্থের মাধ্যমে আরও ৩.২ বিলিয়ন বেসরকারি অর্থ এসেছে। তিন গুণ হলে ২০৩৫ সালে তা হতে পারে বছরে ৮৫-১২০ বিলিয়ন, দেশীয় সরকারি অর্থ যোগ করলে ১৫৪-১৮৯ বিলিয়ন। তাতেও অর্ধেকের বেশি চাহিদা অপূর্ণ থাকবে।
অর্থায়নের ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১২.৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে ঋণ হিসেবে; স্বল্পোন্নত দেশে ৮৮ শতাংশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রে ৭৮ শতাংশ ছিল রেয়াতি। দেশীয় অভিযোজন ব্যয় বছরে আনুমানিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উদাহরণও আছে: ২০১০ থেকে ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলে অন্তত ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যার ১৮০ মিলিয়ন অভিযোজনে।
অর্থের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১৩টি তহবিলের ১১১টি বিনিয়োগ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র ১৫টির অভিযোজনের জোরালো যুক্তি আছে, ৭৫টিতে সহনশীলতা গৌণ সুফল, আর ২১টির সরাসরি অভিযোজনে নজর নেই। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ অর্থায়নে স্থানীয় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও স্থানীয় বা সমাজভিত্তিক নেতৃত্বের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল মাত্র ০.১৭ শতাংশে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নের ৭০ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এসেছে কেনিয়ার স্থানীয় নেতৃত্বাধীন জলবায়ু কর্মসূচি, যা ২০২১ সালে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৪৫টি কাউন্টিতে ১,৭৭৫টির বেশি জলবায়ু বিনিয়োগে সহায়তা দিয়েছে।
ছবি: Department of Foreign Affairs and Trade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)