২০২৬ সালের বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী হুব লেলিভেল্ড (Huub Lelieveld)। ছয় দশক ধরে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে গবেষণা, প্রচার ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, যা বিশ্বজুড়ে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার ডেময়েনে বোরলগ আন্তর্জাতিক সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক চু দোংইউ (QU Dongyu) বলেন, ক্ষুধা দূর করতে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও বণ্টনের পাশাপাশি এই আস্থাও দরকার যে খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হবে না। তাঁর ভাষায়, যে খাবার মানুষকে অসুস্থ করে, তা মানুষের পেট ভরায় না। তিনি জানান, অনিরাপদ খাদ্যে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হয়, আর শুধু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেই উৎপাদনশীলতা হারানো ও চিকিৎসা খরচে বছরে আনুমানিক ১১ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়।
পুরস্কারটি দেওয়া হয় নরম্যান বোরলগের সম্মানে, যাঁর উচ্চফলনশীল গমের জাত কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুধা থেকে মুক্ত করেছে বলে ধরা হয়। এবারের আয়োজনে ৬০টির বেশি দেশ ও ৬০০ প্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে চারজন কৃষিমন্ত্রী ও আগের বছরগুলোর পুরস্কারজয়ীরা।
লেলিভেল্ডের আজীবনের বিশ্বাস, নিরাপদ খাদ্য পাওয়া সবার অধিকার, এ কথার প্রশংসা করেন চু। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো যাতে খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড কার্যকর করতে পারে, সে জন্য এফএও কারিগরি সহায়তা দেয়; অভিন্ন মানদণ্ড সেখানে জীবন বাঁচায় এবং বাণিজ্যের খরচ কমায়।
খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা সীমান্ত বা আয়ের স্তর মানে না, মনে করিয়ে দেন তিনি। ২০১২ সালের খরার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে ভুট্টায় আফলাটক্সিন ছড়িয়েছিল। একই বিষ আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বড় অংশে ভুট্টার বড় সমস্যা, যা স্বাস্থ্য ও আয় দুটিকেই ঝুঁকিতে ফেলে এবং কৃষকদের বেশি দামের বাজার থেকে দূরে রাখে, বলেন তিনি।
এফএওতে থাকা কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন ও আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ সুরক্ষা কনভেনশনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন চু। আন্তঃসীমান্ত প্রাণিরোগ মোকাবিলায় এফএওর নতুন বৈশ্বিক অংশীদারত্ব কর্মসূচি (জিপিপি-ট্যাড) যৌথ নজরদারি, জৈব নিরাপত্তা ও দ্রুত সাড়ার মাধ্যমে সব দেশের উৎপাদকদের সুরক্ষা দেয় বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিরাপদ খাদ্যই খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)