দক্ষিণ আফ্রিকার চেরি খাতের ২০২৬/২৭ মৌসুম শুরু হয়েছে কঠিনভাবে। অস্বাভাবিক আগাম ফল তোলা, ফলের মানে তারতম্য এবং চীনের বাজারে প্রবেশে দেরির কারণে বিদেশে ভালো চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি গত মৌসুমের চেয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
হর্টগ্রোর চেরিজেডএ বিভাগের ব্যবস্থাপক কারিয়েন বেজুইডেনহাউট বলেন, ২০২৫/২৬ মৌসুমে উৎপাদন ১১১ শতাংশ বেড়েছিল, কিন্তু এবার আবহাওয়া প্রতিকূল। তাঁর ভাষায়, "তাপপ্রবাহের পর ঠান্ডা হাওয়া এসে ফল ধরায় ক্ষতি করেছে, ফলের মানও আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি।" ফল বেশি দিন টিকবে না বলেও তাঁর আশঙ্কা। দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ চেরিবাগান এখনো পুরো ফলনে পৌঁছায়নি।
দেশের উত্তরাঞ্চলে চেরি চাষ করা প্রতিষ্ঠান জেডজেড২-এর বিপণন ব্যবস্থাপক ক্লাইভ গ্যারেট বলেন, ওয়েস্টার্ন কেপে আগাম ফল তোলা এবং চিলির আগেভাগে বাজারে আসায় তাঁদের স্বাভাবিক বিক্রির সময় কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি সব চেরি উড়োজাহাজে মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে পাঠায়। দাম গত বছরের মতোই আছে, কিন্তু উপকরণ ও বিমান ভাড়ার খরচ অনেক বেড়েছে, ফলে মুনাফা কমছে।
২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন বাজার প্রবেশের চুক্তি সই করলেও দুই সরকারের কিছু প্রশাসনিক কাজ এখনো বাকি, তাই কোনো ফল পাঠানো যায়নি। গ্যারেট বলেন, "আমাদের চেরি নিতে প্রায় ছয়জন আমদানিকারক তৈরি ছিলেন।" অক্টোবরের শেষে উত্তরের চাষিদের ফল তোলা শেষ হবে, তাই এ মৌসুমে তাঁদের লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সময়মতো প্রক্রিয়া শেষ হলে ওয়েস্টার্ন কেপের চাষিরা সুযোগ পেতে পারেন।
হর্টগ্রোর হিসাবে ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮০২ হেক্টরে চেরি চাষ হয়েছে, এর ৩৫২ হেক্টর সেরেসে। ২০২৪/২৫ মৌসুমে উৎপাদিত ৩,৩০৬ টনের ৩৩ শতাংশ রপ্তানি, ৫৭ শতাংশ দেশে বিক্রি ও ৯ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়েছে। রপ্তানির ৬০ শতাংশই যায় যুক্তরাজ্যে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিন্ডি বোথা।
ছবি: George Chernilevsky / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa




মন্তব্য
(০)