এ বছরের দুর্বল বর্ষা ভারতের খরিফ ফসলে কতটা অসমভাবে আঘাত করছে, রাজস্থানের নতুন রাজ্যভিত্তিক হিসাবে তা স্পষ্ট বলে জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার: শুষ্ক পশ্চিমে বাজরা ও গুয়ারের উৎপাদন কমছে, আর যেখানে পানি ছিল সেখানে বাড়ছে চীনাবাদাম।
এ খরিফ মৌসুমে বাজরার উৎপাদন গত বছরের ৫৩.৭ লাখ টন থেকে কমে প্রায় ৪৯.৪ লাখ টন হবে বলে ধরা হয়েছে, কারণ আবাদ ৪৩.৫ লাখ থেকে নেমে ৩৯.৬ লাখ হেক্টর হয়েছে। রাজ্যের শুষ্ক পশ্চিমে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া গুয়ার (গুচ্ছ শিম) একইভাবে কম জমিতে ১৯.৭ লাখ থেকে নেমে ১৭.৯ লাখ টন হতে পারে।
চীনাবাদামের চিত্র উল্টো: তুলনামূলক পানি পাওয়া এলাকায় কৃষকেরা বেশি লাগানোয় উৎপাদন ২১.২ লাখ থেকে বেড়ে ২৮.২ লাখ টন হবে। জয়পুরের গুয়ার ব্যবসায়ী রামোতার খান্ডেলওয়াল বলেন, এ বছর রাজ্যের প্রায় অর্ধেক এলাকায় তীব্র বৃষ্টিঘাটতি ছিল, পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশে প্রায় বৃষ্টিই হয়নি। রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মান্ডিতে ফসল আসার হিসাব চলছে বলে সংখ্যাগুলো এখনো প্রাথমিক।
জাতীয় চিত্রও টানাটানির। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ সালের খাদ্যশস্য লক্ষ্য ৩৭৩.৯৩ মিলিয়ন টন, যা গত বছরের আনুমানিক উৎপাদনের চেয়ে প্রায় ২.৬৩ মিলিয়ন টন কম; সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি খরিফ আবাদ আগের বছরের চেয়ে ১৬ লাখ হেক্টর কম ছিল, মূলত কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ধান কম লাগানোয়। কম বৃষ্টির এলাকায় কৃষকদের ধান ছেড়ে ডাল ও তেলবীজে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, এল নিনো পুরোপুরি জেঁকে বসেছে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। আইআইটি গান্ধীনগরের ইন্ডিয়া ড্রাউট মনিটরের হিসাবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দেশের অর্ধেকের কিছু বেশি এলাকা শুষ্ক বা খরাকবলিত ছিল, আর মহারাষ্ট্র তার ৩৫৮টি ব্লকের ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে।
ছবি: Herovaclicks / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)