গরুর দুধ থেকে নয়, প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তিতে অণুজীব দিয়ে দুধের প্রোটিন ল্যাকটোফেরিন তৈরি করে স্টার্টআপ টার্টলট্রি (TurtleTree)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৈশ্বিক সদর দপ্তর সিঙ্গাপুর থেকে নেদারল্যান্ডসে সরিয়ে নিয়েছে এবং এড শহরের চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজো ফুড রিসার্চ (Nizo Food Research)-এর সঙ্গে গবেষণা অংশীদারত্ব করেছে।
ল্যাকটোফেরিন লোহা ধরে রাখা এক ধরনের প্রোটিন, যা মায়ের দুধে এবং গাভীর শালদুধে থাকে। কিন্তু গরুর দুধে এর পরিমাণ এত কম যে ১ কেজি বিশুদ্ধ প্রোটিন পেতে অন্তত ১০,০০০ লিটার দুধ লাগে। গ্রিন কুইনের হিসাবে এর দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ২,০০০ ডলার, তাই এটি মূলত শিশুখাদ্য আর দামি সাপ্লিমেন্টেই সীমাবদ্ধ।
প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে এই সমস্যার সমাধান: অণুজীবের ভেতরে নির্দিষ্ট ডিএনএ ক্রম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তারপর বায়োরিঅ্যাক্টরে গাঁজনের সময় সেই অণুজীবই কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন তৈরি করে। নোভোনেসিস (Novonesis)-এর বিনিয়োগ পাওয়া টার্টলট্রিই প্রথম স্টার্টআপ, যারা প্রাণী ছাড়া তৈরি গাভীর ল্যাকটোফেরিন বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু করে; গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে নারীস্বাস্থ্য লক্ষ্য করে চালু হয় তাদের সাপ্লিমেন্ট ব্র্যান্ড ইনটেনশনাল (Intentional)।
নতুন চুক্তিতে নিজোর একটি নির্দিষ্ট দল কয়েক বছর ধরে টার্টলট্রির এলএফ+ ল্যাকটোফেরিন নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা, স্বাস্থ্যদাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং পণ্য তৈরির কাজ করবে; গুরুত্ব পাবে সুস্থভাবে বার্ধক্য, মেনোপজ ও পেরিমেনোপজ। প্রতিষ্ঠানটি বসবে ডাচ ফুড ভ্যালির নিজো ফুড ইনোভেশন পার্কে, যেখানে গ্রিন কুইনের ভাষায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্বাধীন খাদ্যমানের পাইলট সুবিধা রয়েছে।
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেংরু লিন (Fengru Lin) বলেন, "বছরের পর বছর ধরে নিজেদের গবেষণা ব্যবস্থা গড়ার বদলে আমরা প্রথম দিন থেকেই নিজোর একটি দলকে কাজে লাগাতে পারছি।" নিজোর প্রধান নির্বাহী নিকোলাস ভ্লেস (Nikolaas Vles) বলেন, তারা নিজেদের বিজ্ঞান শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্ভাবকদের জন্যও খুলে দিতে চান। পূর্ব নেদারল্যান্ডসের উন্নয়ন সংস্থা ওস্ট এনএল ও নেদারল্যান্ডসের বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা এই স্থানান্তরে সহায়তা করেছে।
এলএফ+ এখনই যুক্তরাষ্ট্রে ইনটেনশনালের একটি আয়রন সাপ্লিমেন্টে, ক্যাডেন্স পারফরম্যান্স কফির কোল্ড ব্রু এসপ্রেসোতে এবং ওয়েওয়াইল্ডের একটি সাপ্লিমেন্ট পাউডারে বিক্রি হচ্ছে; স্ট্রাইভ নিউট্রিশন একটি পানীয় ও প্রোটিন পাউডারে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। টার্টলট্রি এ পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ডলার তুলেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারির আগে কয়েক দফা কর্মী ছাঁটাইও করেছে; চলতি বছর শিশুপুষ্টির বাজারে উৎপাদন বাড়াতে নোভোনেসিসের বিনিয়োগ পেয়েছে।
প্রতিযোগিতাও কম নয়। ভিভিসি, ডেইজি ল্যাব, এক্লিপস ইনগ্রেডিয়েন্টস, ইডেন ব্রু, ডি নোভো ফুডল্যাবস ও তাদের যৌথ উদ্যোগ ফেরিনএক্স এবং অল জি একই প্রযুক্তিতে গাভীর ল্যাকটোফেরিন নিয়ে কাজ করছে, আর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মানুষের ল্যাকটোফেরিন তৈরির চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের অনয় মৃদুলের।
ছবি: Malvina TERMINI / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)