দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আজকের পত্রিকার ফুলবাড়ী প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার মাঠ এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, মুলা, শসা, গাজর, পালং ও বরবটির গাছে ভরে উঠেছে, আর মৌসুমের তুলনায় আগাম সবজিতে বেশি দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ফুলবাড়ীতে ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; উৎপাদনের লক্ষ্য ৩ হাজার ৩৭৫ টন। কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম জাতের সবজিতে মুনাফা বেশি হওয়ায় কৃষকেরা এ চাষে ঝুঁকেছেন।
রোববার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে কেউ খেতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন; কেউ কেউ এখনো চারা রোপণে ব্যস্ত। কৃষকেরা জানান, আগাম ফসলের দাম ও চাহিদা বেশি থাকে; প্রতি বিঘায় সবজি উৎপাদনে যে খরচ, মাঠ থেকেই তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অল্প সময়েই সবজি বাজারে আসে।
শিবনগর ইউনিয়নের বুজরুক শমসেরনগর গ্রামের রহিদুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে ট্রপিক্যাল কুইন জাতের বাঁধাকপি এবং মাস্টার ৪৫ ও ক্যাপ্টেন জাতের ফুলকপির সঙ্গে কিছু জমিতে শিম লাগিয়েছেন। তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা; এসব ফসল থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। ‘আর ২০-২৫ দিনের মধ্যেই ফসল উঠতে শুরু করবে,’ বলেন তিনি।
পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, সারা বছর নানা জাতের সবজি করলেও শীতের আগাম জাতের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতার আবাদ করেন; বাজারে প্রতিটি সবজিরই চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভ তুলনামূলক বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আগাম জাতের এসব সবজি চাষে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন; উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা — প্রতিবেদন: ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি





মন্তব্য
(০)