ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল বাসস্ট্যান্ডে হকাররা ফালি করা শসা ও আমড়া রং মেশানো পানিতে চুবিয়ে বাসযাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন বলে সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। একবার রং মেশালে সারাদিন এগুলো সবুজ দেখায়, পরদিন আবার চুবিয়েও বিক্রি করা যায়।
শিমরাইল মোড়ের বিক্রেতা অভির হোসেন, মো. জুয়েল ও মো. ওমর আলী বলেন, রং না মেশালে যাত্রীরা কিনতে চান না। অপরাধ জেনেও জীবিকার তাগিদে এটি করেন বলে স্বীকার করেন তাঁরা। প্রতি প্যাকেট বিক্রি হয় ১০ টাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার জানান, ২০ কেজি শসা-আমড়ায় ২০ লিটার পানির এক বালতিতে ২০ টাকার রং লাগে।
হকাররা সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি এলাকার একটি মার্কেটের দোকান থেকে এই রং কেনেন। এক দোকানমালিকের দাবি, রংটি ক্ষতিকর নয়, ফুড গ্রেড। তবে রংটি কী, তা সংবাদে নিশ্চিত করে বলা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাপড়ের রং বা অন্য রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. ইমরান হোসেন বলেন, খাদ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী রাসায়নিক বা রং মেশানো শসা-আমড়া নিয়মিত খেলে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গণবিজ্ঞপ্তিতেও সতেজ দেখাতে কৃত্রিম রং ব্যবহারকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরাইয়া সাইদুন নাহার বলেন, অভিযান চালাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কেউ রং মিশিয়ে বিক্রি করে থাকলে টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
প্রায় ২০ বছর আগে জেলা প্রশাসনের অভিযানের পর কিছুদিন এটি বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। পরে তদারকি না থাকায় আবার শুরু হয়।
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)