এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) বরাতে জানা যায়, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। শিশুর অপরিণত পরিপাকতন্ত্রে এ থেকে ইনফ্যান্ট বটুলিজম নামের বিরল কিন্তু গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে।
এ রোগে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য, দুধ খেতে অসুবিধা, দুর্বল কান্না, পেশির দুর্বলতা, এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই ১২ মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মধু তো বটেই, মধু মেশানো খাবার, পানি, ফর্মুলা দুধ বা প্যাসিফায়ারও দেওয়া যাবে না।
চিনির বদলে মধু খেলে রক্তে শর্করা বাড়বে না, এই ধারণাও ঠিক নয়। মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ আছে। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় চিনির বদলে মধু দিলে বিশেষ সুবিধা মেলে না। খেতে চাইলে পরিমাণ হিসাব করে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
পরাগরেণু বা মৌমাছির হুলে অ্যালার্জি থাকলে মধুতেও অ্যালার্জি হতে পারে। খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফোলা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে; শ্বাসকষ্ট বা গলা ফোলা জরুরি অবস্থা।
মধুতে প্রচুর শর্করা ও ক্যালরি থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণে যাঁরা আছেন, তাঁদেরও পরিমিত খেতে হবে। এক বছরের বেশি বয়সী, অ্যালার্জি নেই এমন সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত মধু সাধারণত নিরাপদ। তবে মধু কোনো ওষুধ নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগ অনুযায়ী মধু খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ছবি: Fæ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)