পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার পারলঙ্কা গ্রামের অন্তত দেড়শোটি পরিবারের দিন কাটে কংসাবতী নদীর চরের ফুলবাগানে। এখানকার চাষিরা গোলাপের চাষই বেশি করেন, তাই গ্রামের নাম পারলঙ্কা হলেও এলাকাটি 'গোলাপ গ্রাম' নামেই পরিচিত। কলকাতার দৈনিক এই সময় ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রামটির ফুলচাষিদের নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পাঁশকুড়ার মাইশোরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পারলঙ্কা কৃষিনির্ভর গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কংসাবতী নদী, আর সেই নদীর চরেই চাষিরা বংশ পরম্পরায় গোলাপ চাষ করে আসছেন। গোলাপের পাশাপাশি অন্য ফুল ও সবজির চাষও হয় গ্রামে। প্রতিবেদন বলছে, ফুল ফোটানো এখানকার চাষিদের পেশা, আবার নেশাও; সারাদিন নদীর চরে বাগানের পরিচর্যাতেই সময় কাটে তাঁদের।
গ্রামে আধুনিক ফুল চাষের প্রশিক্ষণ এসেছে এক গ্রামবাসীর উদ্যোগে। পারলঙ্কার বাসিন্দা অনুপম সামন্ত পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মী, নিজের জমিতেও গোলাপ চাষ করেন। তাঁর উদ্যোগে ২০১১ সালে গ্রামে প্রথম ফুল চাষের সরকারি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পারলঙ্কার গোলাপচাষিদের উন্নত পদ্ধতিতে ফুল চাষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেন তিনি।
ফুল চাষ গ্রামের মানুষকে এক জায়গায় এনেছে। ২০১২ সালে অনুপম সামন্ত এবং ফুলচাষি অভিরাম দাস ও অরুণ সামন্তের উদ্যোগে গ্রামে একটি দুর্গাপুজো শুরু হয়, যার দায়িত্ব পরে গ্রামের ফুলচাষিরাই নেন। এ বছর তা ১৫ বছরে পড়েছে; পাশের কিশোরপুর ও গুড়তলা গ্রামের ফুলচাষিরাও এতে যোগ দেন, আর মণ্ডপ সাজানো হয় চাষিদের বাগানের টাটকা ফুলে।
গোলাপচাষি সুভাষ ঘড়া এই সময়কে বলেন, 'ফুলচাষই আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।'
প্রতিবেদনটি লিখেছেন এই সময়ের পাঁশকুড়া প্রতিনিধি দিগন্ত মান্না। গ্রামের গোলাপ চাষের জমির পরিমাণ, জাত, ফলন বা বাজারদরের হিসাব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
ছবি: SAIDUL HASAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)