বাবা-মায়ের কোনো পাপ বা ভুলের দায় সন্তানের ওপর বর্তায় না। কোরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা, কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না (সুরা আল-আনআম ১৬৪, সুরা ফাতির ১৮)। তবে বাবা-মা ভুলের ঊর্ধ্বে নন বলে ইসলাম সন্তানকে নীরব না থেকে শ্রদ্ধা বজায় রেখে প্রজ্ঞা ও বিনম্রতার সঙ্গে তাঁদের ভুল শুধরে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। ইত্তেফাকের ধর্ম বিভাগের এক লেখায় বিষয়টির এই দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম শর্ত শিষ্টাচার। বাবা-মা ভুল করলেও কটূক্তি, রাগ বা অপমানজনক আচরণ চলবে না, কণ্ঠস্বর রাখতে হবে নিচু ও মার্জিত। সুরা আল-ইসরার ২৩ নম্বর আয়াতে বার্ধক্যে উপনীত বাবা-মাকে 'উফ' পর্যন্ত না বলতে, ধমক না দিতে এবং সম্মানজনক কথা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৃষ্টান্ত হিসেবে লেখায় এসেছে নবী ইবরাহিমের (আ.) আচরণ। তাঁর পিতা আজর মূর্তিপূজায় লিপ্ত থাকলেও তিনি 'হে আমার পিতা' সম্বোধন করে নম্র ভাষায় সত্যের আহ্বান জানান (সুরা মারইয়াম ৪২)। পিতার হুমকির মুখেও তিনি শান্ত থেকে দোয়ার কথা বলেছিলেন।
কৌশলের কথাও আছে। নিজের অপছন্দ হলেই কোনো কাজ অন্যায় হয়ে যায় না, তাই কোরআন-সুন্নাহর দলিলে বিষয়টি সত্যিই ভুল কি না আগে নিশ্চিত হতে হবে, আর আলেমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতভেদ আছে এমন বিষয়ে নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কথা বলতে হবে একান্তে, সবার সামনে নয়, আক্রমণাত্মক ভঙ্গির বদলে বিনীত পরামর্শের সুরে। সন্তানের নিজের আচরণ সৎ ও মার্জিত না হলে কথার প্রভাবও পড়ে না।
বাবা-মা যদি মিথ্যা সাক্ষ্য, জুলুম বা অন্যের হক নষ্ট করার মতো গুনাহের নির্দেশ দেন, তা মানা যাবে না; স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে সৃষ্টির আনুগত্যের অবকাশ নেই। তবু সুরা লুকমানের ১৫ নম্বর আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী দুনিয়ায় তাঁদের সঙ্গে সদ্ভাবে থাকতে হবে, অমান্যের সময়ও কঠোরতা বা অশ্রদ্ধা নিষিদ্ধ।
জোরজবরদস্তিরও সুযোগ নেই, কারণ হেদায়েতের মালিক আল্লাহ; সন্তানের দায়িত্ব বিনম্রভাবে বোঝানো ও দোয়া করা। বারবার বোঝানোয় কাজ না হলে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা, প্রয়োজনে শ্রদ্ধেয় প্রবীণ আত্মীয় বা বিজ্ঞ আলেমের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। স্ত্রী ও বাবা-মায়ের মতবিরোধে অন্ধভাবে কোনো পক্ষ না নিয়ে ন্যায়পরায়ণ থাকতে হবে, আর গুরুতর নির্যাতন বা অন্যের ক্ষতির ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল অভিভাবক বা আইনি সমাধান খুঁজতে হবে।
লেখাটি ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্কের।
ছবি: Habib M'henni / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)