ইসলামি শরিয়তে বিবাহ একটি ইবাদত এবং পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলার ভিত্তি। তবে বংশের পবিত্রতা রক্ষায় কোরআন ও হাদিস কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম করেছে। এ নিয়ে ইত্তেফাকের ধর্মবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বিধানগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আন-নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে বংশগত, বৈবাহিক ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা দেওয়া হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ।
বংশগত সম্পর্কে নিষিদ্ধ: মা, দাদি ও নানি এবং ঊর্ধ্বতন সব স্তর; মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী এবং নিম্নতন সব স্তর; সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানির খালা; ভাতিজি এবং ভাগনি। দুধ সম্পর্কে নিষিদ্ধ: শৈশবে যিনি দুধ পান করিয়েছেন সেই দুধ মা এবং দুধ বোন।
বৈবাহিক সম্পর্কে নিষিদ্ধ: বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (সৎ মা, দাদা-নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি ও তাঁর ঊর্ধ্বতন নারী; সহবাসকৃত স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে; এবং পুত্রবধূ, অর্থাৎ ছেলে বা নাতির স্ত্রী। কোনো নারী বিবাহাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।
এই ১৪ শ্রেণির বাইরে ফিকহশাস্ত্রে আরও কিছু পরিস্থিতিতে বিবাহ নিষিদ্ধ, প্রতিবেদনে যার তালিকা দেওয়া হয়েছে: একসঙ্গে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা; ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা নারীকে বিবাহ; মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) ছাড়া অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ; এবং অন্যের বিবাহিত স্ত্রীকে বিবাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা আর বংশমর্যাদা রক্ষাই এসব বিধানের লক্ষ্য, এবং বিবাহের আগে একজন মুসলিমের জন্য এই সীমারেখা জানা জরুরি।
ছবি: Hayri Brahimbashev / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)