গরু জবাই না করে বায়োরিয়্যাক্টরে কোষ থেকে গড়া ওয়াগিউ মাংস এবার যুক্তরাজ্যের পোষা প্রাণীর খাবারে ঢোকার ছাড়পত্র পেল। অক্সফোর্ডভিত্তিক আইভি ফার্ম টেকনোলজিস (Ivy Farm Technologies) হলো দেশটিতে এমন অনুমোদন পাওয়া দ্বিতীয় স্টার্টআপ, জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে ২০২৪ সালে মিটলি (Meatly) কালচার্ড মুরগির মাংসের অনুমোদন পায়, যা গত বছর দ্য প্যাকের কুকুরের ট্রিটে সীমিত পরিসরে বাজারে আসে। কয়েক সপ্তাহ আগে বার্মিংহামের পিএটিএস ২০২৬ বাণিজ্য মেলায় আইভি ফার্ম তাদের উপকরণটি দেখিয়েছিল।
পদ্ধতিটি এমন: নর্দান আয়ারল্যান্ডে পালিত একটিমাত্র জাপানি কালো গরুর কোষ নিয়ে বায়োরিয়্যাক্টরে অ্যামিনো অ্যাসিড, চিনি ও ভিটামিন খাইয়ে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় বাড়ানো হয়। ২০১৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসা এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ক্যাথি ইয়ে ও রাস টাকার।
কোম্পানির দাবি, প্রতি ১০০ কিলোক্যালরিতে এতে প্রোটিন ২০ গ্রাম, গরুর সিরলয়েনে যা ১৭.২ গ্রাম। তাদের উল্লেখ করা স্বাধীন পরীক্ষায় হজমযোগ্যতা ৯৮ শতাংশ ও শোষণ ৭.৬ শতাংশ, প্রচলিত মাংসে ৯১ ও ৪.৫ শতাংশ। প্রচলিত গরুর মাংসের তুলনায় ৯৫ শতাংশ কম জমি, ৭৮ শতাংশ কম পানি ও ৯২ শতাংশ কম গ্রিনহাউস গ্যাসের কথাও কোম্পানি বলছে।
কুকুরের ট্রিট, ভেজা ও শুকনো খাবার, তাজা খাবার এবং বিশেষ পুষ্টি ফর্মুলায় এই উপকরণ ব্যবহার করা যাবে। পণ্য তৈরিতে একাধিক প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কাজ চলছে, তাদের একটি ফোল্ড হিল ফুডস (Fold Hill Foods)।
মানুষের খাবারের পথ আলাদা ও ধীর। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে কোম্পানিটি। প্রধান নির্বাহী হর্ষ আমিন (Harsh Amin) এ বছরের শুরুতে গ্রিন কুইনকে বলেন, অনুমোদনের দীর্ঘ সময় আর কঠিন তহবিল পরিস্থিতিই বড় চ্যালেঞ্জ, প্রতি বছরের দেরিতে বিজ্ঞাননির্ভর স্টার্টআপের অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন গ্রিন কুইনের অনয় মৃদুল (Anay Mridul)।
ছবি: Fernando Hartwig / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)