ব্রেক্সিট-পরবর্তী খাদ্য বাণিজ্যের তল্লাশি তুলে দিতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে খসড়া চুক্তিতে পৌঁছেছে, তাতে কালচার্ড মাংস খাতের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমতে পারে। গ্রিন কুইন জানাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন নভেল ফুড ও জিন সম্পাদিত উদ্ভিদ সাময়িক ছাড় পাবে। তবে এখনো কিছুই প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
ছাড় না মিললে স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) চুক্তির ফলে কালচার্ড মাংস ও প্রিসিশন ফারমেন্টেশন কোম্পানিগুলোকে ইইউর নভেল ফুড প্রক্রিয়ায় যেতে হতো, যাতে ছয় বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। যুক্তরাজ্যের খাদ্যমান সংস্থা এফএসএ প্রায় ৬০০ অনুমোদনধারী ও ব্যবসাকে সতর্ক করেছিল যে চুক্তিতে তাদের ব্রিটিশ অনুমোদন বাতিল হয়ে যেতে পারে, এমনটাই খবর।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইইউ যেসব পণ্য মূল্যায়ন করেছে সেগুলোতে যুক্তরাজ্য তাদের সিদ্ধান্ত মানতে পারে, আর বাকিগুলোর জন্য নিজের নিয়ম রাখতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই এই সুযোগ কেবল ব্রিটিশ বাজারের জন্য; ইইউ সদস্য দেশে বিক্রি করতে হলে ইউরোপের নিরাপত্তা ছাড়পত্র লাগবেই।
গুড ফুড ইনস্টিটিউট ইউরোপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিনাস পারডো (Linus Pardoe) বলেন, সাময়িক ছাড় হলে এ ধরনের পণ্য ব্রিটেনের বাজারে আনার চেষ্টায় বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাজ্য সরকার, ইউরোপীয় কমিশন বা সদস্য দেশ কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অনুমোদনের সময় কমাতে ২০২৪ সাল থেকে নিজের কাঠামো ঢেলে সাজাচ্ছে ব্রিটেন। এফএসএর দুই বছরের কালচার্ড মাংস স্যান্ডবক্স চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আছে ফারমেন্টেশন প্রযুক্তি নিয়ে ১৪ লাখ পাউন্ডের গবেষণা কর্মসূচিও। অনিশ্চয়তায় কয়েকটি কোম্পানি ব্রিটিশ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। তাদের একটি বেনিমিট (BeneMeat) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে খোলা চিঠিও দিয়েছে।
মানুষের খাবার হিসেবে এফএসএর কাছে এখন আইভি ফার্ম, আলেফ ফার্মস, মোসা মিট, বেনিমিট ও পারিমার নথি মূল্যায়নাধীন, এগিয়ে আছে পারিমা। ২০ নভেম্বরের সম্মেলনে আলোচনা শেষ হলে সংস্থাটি ব্যবসায়ীদের জানাবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়া ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে পিছিয়েছে বলে খবর।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন গ্রিন কুইনের অনয় মৃদুল (Anay Mridul)।
ছবি: World Economic Forum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)