ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা জমিতে এবার প্রথমবারের মতো প্রায় দেড়শ বিঘায় আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। পৌরসভার দোলাবাড়ী এবং সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই আবাদ সম্ভব হয়েছে সৌরশক্তিচালিত সেচ, কৃষি বিভাগের পরিকল্পনা ও কৃষকদের অংশগ্রহণে, জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।
প্রযুক্তিটি কী: তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে বসানো সোলার সেচব্যবস্থা নবায়নযোগ্য সৌরশক্তিতে পানি তুলে মাটির নিচে বসানো উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে জমিতে পৌঁছে দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, পাইপলাইনে পানি যাওয়ায় অপচয় কমেছে, কৃষকের সেচ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দোলাবাড়ী গ্রামে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে প্রায় ৭৫ বিঘায় ব্রি ধান-৯৮ ও ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ চাষ হয়েছে; মাঠে এখন পাকা ধানের শীষ। কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমে এখন অল্প খরচে সেচ পাচ্ছেন, কৃষি বিভাগের সহায়তায় এত বড় পরিসরে আউশ করেছেন এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনায় কৃষকেরা বিনা মূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ পেয়েছেন।
চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘায় আউশ হয়েছে। সাতমোড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার জমিতে বিনা ধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হওয়ার পর তিনি বীজ রেখে দেন; এবার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনায় উপকরণ দেওয়া হয়। মন্নান মিয়া জানান, তাঁর কাছ থেকে আরও কয়েকজন বীজ নিয়ে আউশ করেছেন।
পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানের মতে, সোলার সেচপ্রযুক্তির কারণে সামনে আরও পতিত জমি আউশের আওতায় আনা যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বোরো কাটার পর বন্যামুক্ত পতিত জমিতে স্বল্পমেয়াদি আউশের আবাদ বাড়িয়ে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোই লক্ষ্য।
প্রতিবেদনটি দেশ রূপান্তরের নবীনগর প্রতিনিধির।
ছবি (প্রতীকী): বাংলাদেশে সৌরচালিত সেচপাম্প। ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)