বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি আর তিনটি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে; ভাঙন এসে ঠেকেছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছাকাছি। আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, ভাঙনরোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
২০০৩ সালে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতে আড়াআড়িভাবে ১,১০০ মিটারের দুটি মাটির স্পার তৈরি হয়েছিল, দুটির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। স্পার রক্ষায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন ঠেকেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, তীব্র স্রোতে দুটি স্পারের সামনের অংশ নদীতে চলে গেছে; পানি কমায় স্রোত আরও বেড়ে দুই স্পারের মাঝখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের হিসাবে শহড়াবাড়ি স্পার তিন দফা ভেঙেছে। শহড়াবাড়ির হজরত আলী (৬৫), জুয়েল রানা ও রঞ্জু মিয়ার ভিটা নদীতে গেছে; তাঁরা বাঁধের পশ্চিম পাশে দোচালা ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, আগে তিন দফায় জিওব্যাগ ফেলা হলেও এখন কোনো ব্যবস্থা নেই। এর আগে ভাঙনে ভান্ডারবাড়ির বৈশাখী, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউ সারিয়াকান্দিসহ প্রায় ১০টি গ্রাম উপজেলার মানচিত্র থেকে মুছে গেছে; সেসব গ্রামের মানুষ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছিলেন, এখন আবার ভাঙনের মুখে।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, স্পারের ভাঙন না ঠেকালে বাঁধ ভেঙে বাঁধে আশ্রিত হাজারো পরিবার বিপদে পড়বে; পাউবোর কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেননি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, যমুনার ভাঙনরোধে ৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে; অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছবি (প্রতীকী): সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী। ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)