উপকূলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতার উপযোগী প্রযুক্তি এবং বিদ্যমান পানির উৎসের রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি; সুন্দরবন রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়াতে ও বন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) মোংলার ফ্রেন্ডশিপ আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রথম আলো আয়োজিত ‘উপকূলে পানির সংকট ও সুন্দরবনের প্রতিবেশ’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা উঠে আসে।
সুন্দরবন একাডেমির চেয়ারপারসন অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির বৈশিষ্ট্য সব জায়গায় এক নয়, কোথাও লবণ, কোথাও আয়রনের সমস্যা; তাই সারা দেশের এক প্রযুক্তি এখানে চলবে না। বনের ভেতর দিয়ে চলা জাহাজের তেল, বর্জ্য, শব্দ ও কৃত্রিম আলো বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি করে উল্লেখ করে তিনি সুন্দরবনের জন্য একটি একক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব দেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামানের মতে, পুকুরের পানি পরিশোধন বা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার অনেক স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে যায়; বনের ধারণক্ষমতা না ভেবে পর্যটন বাড়ানো ঠিক নয়।
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, বন অপরাধ শনাক্তে ড্রোন ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, নৌকার বদলে পায়ে হেঁটে টহলে জোর দেওয়ায় হরিণ শিকারের ফাঁদ বেশি উদ্ধার হচ্ছে; তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার জলযানের ঘাটতি আছে, গত বছর ১০টি জলযান কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, খুলনা থেকে কয়রা ও মোংলাগামী নৌযানের চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট বনের প্লাস্টিক বর্জ্যের বড় উৎস। পূর্ব বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, লবণাক্ততা বাড়লে ইরাবতী ডলফিন ও মিঠাপানির গাঙ্গেয় শুশুকের বিচরণক্ষেত্র বদলে যেতে পারে।
স্থানীয়দের কথায় উঠে আসে প্রতিদিনের কষ্ট। চাঁদপাইয়ের দক্ষিণ কাইনমারীর বনজীবী নারী কমলা সরকার বলেন, শুধু খাওয়ার নয়, রান্না, গোসল এমনকি গবাদিপশুর জন্যও পানির সংকট; লবণপানিতে মাছ ধরতে গিয়ে নারীরা শারীরিক সমস্যায় পড়েন। ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের ইস্রাফিল বয়াতি জানান, বনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে, সেই পানি লোকালয়ে এসে মানুষ ফিটকিরি দিয়ে পরিশোধন করে খাচ্ছে। ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ পুরোনো পুকুর সংস্কার, নতুন পুকুর খনন এবং সরকারি ও জেলা পরিষদের পুকুর খাবার পানির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সিডর ও আইলার সময় সুন্দরবন উপকূলের মানুষকে বড় সুরক্ষা দিয়েছে; উপকূলের পানিতে আর্সেনিক ও সিসা মিলছে, ধরে রাখা বৃষ্টির পানিতেও দূষণ পাওয়া উদ্বেগের। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়ক মোহাম্মদ নেহাল আজমাত মহী বলেন, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি বসালেই দায়িত্ব শেষ নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ লাগে।
ছবি: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ও নদী। ছবি: Amartyabag / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)