কেউ একটা মেসেজের উত্তর দিতে, গোসল করতে বা বাজারে যেতে পারছেন না দেখলে আমরা সহজেই বলে ফেলি, এটা আলস্য বা ইচ্ছাশক্তির অভাব। বার্তা২৪-এ কনক জ্যোতি লিখেছেন, জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাটিয়াস পিলনির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই ব্যাখ্যা ভুল। প্রেরণা কোনো ভরা-খালি জ্বালানির ট্যাংক নয়; মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত, প্রায় অগোচরে, খরচ আর লাভের হিসাব কষে।
প্রতিটি কাজের আগে মস্তিষ্ক তিনটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজে: কতটা পরিশ্রম লাগবে, বিনিময়ে কতটা পুরস্কার মিলবে, আর চেষ্টা করলে সেটা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা। এই হিসাব ব্যাহত হলে মানুষ কাজ শুরু করতে পারেন না, আর বাইরে থেকে তা আলস্য বা উদাসীনতা বলে মনে হয়।
পিলনির দল ৬৮টি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণে দেখেছে, সিজোফ্রেনিয়া, বিষণ্নতা ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্তরা পুরস্কারের জন্য পরিশ্রম করতে অন্যদের চেয়ে কম আগ্রহী হন। এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে, বিষণ্নতায় কম হলেও পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত পুরস্কার বড় বা নিশ্চিত হলে মানুষ বেশি খাটেন, কিন্তু এসব রোগে সেই সামঞ্জস্য দুর্বল হয়ে যায়।
কম্পিউটার মডেলিংয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, তিন রোগে কারণ তিন রকম। সিজোফ্রেনিয়ায় পরিশ্রম, পুরস্কার ও সম্ভাবনার তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কঠিন হয়, ফলে মানুষ সহজ কাজ বেছে নেন বা কাজ ফেলে রাখেন। বিষণ্নতায় পুরস্কার আকর্ষণীয় থাকলেও পরিশ্রম পাহাড়সমান মনে হয়। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে বিষণ্ন পর্বে একই অবস্থা, আর ম্যানিক পর্বে উল্টো: পুরস্কার অতিরিক্ত বড় আর পরিশ্রম হালকা মনে হয়।
পিলনির মতে, ‘শুধু শুরু করো’ ধরনের কথা আক্রান্তদের কাছে হতাশাজনক শোনায়, কারণ তাতে সমস্যাটিকে ইচ্ছাশক্তির অভাব বলে ধরা হয়। তাঁর পরামর্শ, বরং জিজ্ঞেস করুন কোনটা কঠিন লাগছে: পরিশ্রম, দূরের পুরস্কার, অনিশ্চিত ফল, নাকি পরিকল্পনার জটিলতা। গবেষণা বলছে, কারণ ভিন্ন হলে সমাধানও ভিন্ন: বিষণ্নতায় পুরস্কারকে স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক করে তোলা, সিজোফ্রেনিয়ায় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা ও পরিকল্পনায় সাহায্য, বাইপোলারে অবস্থা অনুযায়ী কৌশল।
লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন, কিন্তু চিকিৎসা নেন এক শতাংশেরও কম। লেখকের মতে, এই বাস্তবতায় নিজের বা প্রিয়জনের নিষ্ক্রিয়তাকে দোষ না দিয়ে বোঝার চেষ্টা করাই প্রথম কাজ।
সূত্র: বার্তা২৪



মন্তব্য
(০)