কাজের চাপ, অনিদ্রা বা দীর্ঘক্ষণ পর্দায় তাকিয়ে থাকার পর মাথা ধরা অনেকেরই হয়, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনক নয়। কিন্তু ব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে গেলে, তীব্রতা বাড়তে থাকলে বা সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ যুক্ত হলে অবহেলার সুযোগ নেই, কারণ কখনো কখনো এটি মস্তিষ্কে টিউমারের পূর্বাভাস হতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরেছে দিনাজপুর টিভি।
জ্যেষ্ঠ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা পণ্ডিতা জানান, মানসিক চাপ, কম ঘুম, পানিশূন্যতা বা চোখের ওপর চাপে সাধারণত মাথা ধরে; কিন্তু ব্যথা স্থায়ী বা অস্বাভাবিক হলে দ্রুত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। ইয়াথার্থ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. কুনাল বাহরানি বলেন, আগের ব্যথার সঙ্গে নতুন ব্যথার স্পষ্ট পার্থক্য থাকলে, সাধারণ উপশমে আরাম না মিললে, কিংবা কাশি দিলে, সামনে ঝুঁকলে বা ভারী ব্যায়ামে ব্যথা বাড়লে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
টিউমার মস্তিষ্কের কোন অংশে, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত আটটি লক্ষণ গুরুত্ব দেওয়া উচিত: এক, মাথাব্যথা আগের চেয়ে ঘন ঘন ফেরা, তীব্রতা বাড়া বা ধরন পুরো বদলে যাওয়া। দুই, ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র ব্যথা বা ব্যথায় রাতে ঘুম ভাঙা, বিশেষ করে সঙ্গে বমি বা বমি ভাব। তিন, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিস দুটো দেখা। চার, ভারসাম্য হারানো, সোজা হাঁটতে সমস্যা বা একটানা মাথা ঘোরা।
পাঁচ, হাত-পায়ের কোনো অংশে দুর্বলতা, অবশ ভাব বা অনুভূতির পরিবর্তন, বিশেষ করে শরীরের এক পাশ দুর্বল হলে। ছয়, কথা বলতে সমস্যা, ঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া। সাত, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, অকারণ বিরক্তি, মেজাজের অস্থিরতা বা ব্যক্তিত্বে অস্বাভাবিক বদল। আট, যাঁর আগে কখনো খিঁচুনি হয়নি, তাঁর হঠাৎ খিঁচুনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এসব লক্ষণ থাকলেই মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, এমন নয়; অনেক সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যাতেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে মাথাব্যথা দীর্ঘদিন চললে, ক্রমে বাড়লে বা একাধিক অস্বাভাবিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, প্রথমবার খিঁচুনি হলে, কথা স্পষ্ট বলতে না পারলে বা শরীরের এক পাশ অবশ বা শক্তিহীন হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
সূত্র: দিনাজপুর টিভি



মন্তব্য
(০)