একই পাতের খাবার কোন ক্রমে খাচ্ছেন, সেটিও রক্তে শর্করার মাত্রায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এই অভ্যাসের নাম মিল সিকোয়েন্সিং: প্রথমে আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি, তারপর প্রোটিন, সবশেষে কার্বোহাইড্রেট। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মায়ো ক্লিনিকের তথ্য নিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছে জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্ক।
বাঙালির পাতে সাধারণত ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজি থাকে। এই পদ্ধতিতে ভাত দিয়ে শুরু না করে প্রথমে শাক, লাউ, পটোল, ঢেঁড়স বা ফুলকপির মতো সবজি কিংবা সালাদ খাওয়া হয়। আঁশ হজমপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে; সালাদ ও সবজি অবশ্য ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে।
এরপর মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, ডাল বা ছোলার মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। প্রোটিন পেশি ও টিস্যু গঠনে দরকারি, আর আঁশের পরে খেলে পরিতৃপ্তি বাড়তে পারে। সবশেষে ভাত বা রুটি। শাকসবজি ও প্রোটিনের পরে কার্বোহাইড্রেট খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেটের আগে শাকসবজি ও প্রোটিন খেলে খাবারের পর শর্করার বৃদ্ধি তুলনামূলক কম হতে পারে; প্রি-ডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য অভ্যাসটি সহায়ক হতে পারে। আঁশ ও প্রোটিন পেট ভরা রাখায় বেশি খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
তবে এটি কঠোর নিয়ম নয়, আর শুধু খাওয়ার ক্রম মানলেই ওজন কমবে, এমনও নয়। মোট ক্যালরি, খাবারের মান, ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভাত বা রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, পরিমাণের দিকে নজর রাখাই জরুরি।
মিল সিকোয়েন্সিং কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, ডায়াবেটিসের ওষুধ বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্পও নয়। ডায়াবেটিস থাকলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ, ওষুধ ও খাবারের সময়সূচি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে, আর পাতে রাখতে হবে শাকসবজি, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পরিমিত কার্বোহাইড্রেট।
ছবি: ভাত ও মাছের ঝোল, Chotonn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)