খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে জিংকসমৃদ্ধ চালসহ বায়োফর্টিফাইড ফসল অন্তর্ভুক্তির আহ্বান এসেছে পাবনার এক অ্যাডভোকেসি কর্মশালা থেকে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (MAIN) প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করে হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস, সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), পাবনা।
প্রকল্পের কাজ তুলে ধরে হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান জানান, পাবনায় ইতোমধ্যে ৮০০ কৃষককে জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান-২০-এর বীজ দেওয়া হয়েছে এবং চারটি প্রদর্শনী প্লট বসানো হয়েছে। কৃষক প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজও হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলার কৃষক বীজ ও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন; আগামী বোরো মৌসুমে আরও কৃষককে বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ২৪টি প্রদর্শনী প্লট বসানোর পরিকল্পনা আছে।
প্রধান অতিথি পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জিংকের ঘাটতিতে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়াসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। একসময় আয়োডিনের ঘাটতি বড় সমস্যা ছিল, লবণে আয়োডিন যুক্ত করে তা অনেকটা মোকাবিলা করা গেছে। ভাত প্রধান খাদ্য হওয়ায় ধানে জিংক নিশ্চিত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, তবে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত, বাজারজাত ও ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
মো. মজিবর রহমান বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ও স্কুল ফিডিংসহ চলমান সরকারি কর্মসূচিতে বায়োফর্টিফাইড চাল যুক্ত করা গেলে পুষ্টিনিরাপত্তায় তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতি ডিএই পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক বলেন, পাবনায় বায়োফর্টিফাইড ফসলের উৎপাদন ও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চলবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরুজ্জামান।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বায়োফর্টিফাইড ফসলের উৎপাদন, বাজার উন্নয়ন, সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি ও জনসচেতনতা নিয়ে কথা বলেন। কর্মশালা বাস্তবায়ন করেন আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না।
তথ্য: এগ্রিকেয়ার২৪-এর ডেস্ক প্রতিবেদন।
ছবি: সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটা (প্রতীকী), Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)