ধান পাকলেই বাড়ে পাখির আনাগোনা, সঙ্গে পোকামাকড় আর গবাদিপশুর ক্ষতির ভয়। শেষ মুহূর্তের এই ঝুঁকি এড়াতে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া এলাকার কৃষক নিল রতন হাওলাদার ৩৩ শতক জমির পাকা ধানের চারপাশ ও ওপর পুরোটাই নেটজাল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জমির চারদিকে খুঁটি পুঁতে জাল টানানো হয়েছে, ওপরের অংশও ঢাকা। নিচ দিয়ে যেন গরু-ছাগল ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থাও আছে। আশপাশের সবুজ খেতের মাঝে তাঁর জমিতে এখন সোনালি ধান।
নিল রতন জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবার তিনি আগাম জাতের ব্রিধান-৮৭ চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান পাকার পর পাখির আক্রমণে ফসল নষ্টের আশঙ্কায় জাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, ‘ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে ক্ষতি হলে সব পরিশ্রমই পণ্ড হয়। তাই কিছুটা বাড়তি খরচ হলেও নেটজাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি।’
স্থানীয় কৃষকেরা সাধারণত পাখি তাড়াতে কাকতাড়ুয়া বা উজ্জ্বল ফিতা ব্যবহার করেন; পুরো জমি জালে ঢাকা এলাকায় একেবারেই নতুন। তাই প্রতিদিন আশপাশের অনেক কৃষক তাঁর খেত দেখতে আসছেন।
কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, ধান পাকার মৌসুমে পাখি ও অন্য প্রাণীর কারণে ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক; সঠিকভাবে নেটজাল ব্যবহার করা গেলে ফসল সুরক্ষায় ভালো ফল মেলে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় অন্য কৃষকেরাও পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিবেদন: বার্তা২৪.কম-এর ঝালকাঠি ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: পাকা ধানের খেত (প্রতীকী), SyedAminul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)