গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান খান নিজ গ্রামে জমি বর্গা নিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে সাম্মাম, অর্থাৎ রক মেলন চাষ করেছেন। তাঁর বাগানের গাছে গাছে এখন প্রচুর ফল ধরেছে।
জমি বর্গাসহ সব মিলিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। প্রথম দফায় এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার সাম্মাম বিক্রি হয়েছে। কোনো সমস্যা না হলে বাকি ফল ৬ থেকে ৭ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি। ফল যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে আর ঢাকার আড়তে; পাইকারের কাছে এখন কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কামরুজ্জামান খান বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন, এখন পর্যন্ত লোকসান হয়নি। এ উদ্যোগে নিজের পরিবারের পাশাপাশি কয়েকজন শ্রমিকের কাজের সুযোগ হয়েছে। সামনে আরও বিদেশি ফলের চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর।
সাম্মাম মূলত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনপ্রিয় মিষ্টি ও সুগন্ধি গ্রীষ্মকালীন ফল। কৃষি বিভাগের হিসাবে কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআঁশ মাটি এ ফলের জন্য সম্ভাবনাময় হতে পারে।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ বলেন, সাম্মাম সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিনে তোলার উপযোগী হয়। ঠিক পরিচর্যা আর ভালো বাজারদর পেলে প্রতি বিঘা থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা আছে।
তবে তিনি সতর্ক করেন, উৎপাদন খরচ সব জমিতে এক নয়; জমির ধরন, শ্রমিকের মজুরি, সেচ, উপকরণ আর ব্যবস্থাপনার ওপর খরচ কমবেশি হয়। তাই নতুন কেউ এ চাষে নামার আগে নিজের জমির হিসাব কষে নেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের গাজীপুর সংবাদদাতা।
ছবি: জালিদার খোসার রক মেলন (Cucumis melo var. reticulatus), Scott Bauer, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)