শীত আসার আগেই নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় খেজুরগাছ পরিচর্যা শুরু হয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা গাছিরা গাছ ছাঁটা, মোড়ানো আর পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত। এ জেলার খেজুর গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে যায়।
জেলার লালপুর উপজেলায় এখন প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫টি খেজুরগাছ আছে। চলতি মৌসুমে এসব গাছ থেকে ৩ হাজার ২১০.৫ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।
গাছিরা স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে গাছ নিয়ে রস সংগ্রহ করেন, বিনিময়ে মালিককে দেন গুড় ও টাকা। রস সেখানেই জ্বাল দিয়ে গুড় বানিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়; অনেক গাছি ও ব্যবসায়ী অনলাইনেও সারা দেশে গুড় বিক্রি করেন।
হাঁসবাড়িয়া গ্রামের গাছি ইসমাইল হোসেন (৪২) জানান, ডালপালা ছেঁটে গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী করার কাজ চলছে। কৃষ্ণরামপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪৪) ৩০ বছর ধরে এ কাজ করছেন; এ মৌসুমে এর মধ্যে ১৫০টি গাছ প্রস্তুত করেছেন তিনি।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ভালো রস ও মানসম্মত গুড়ের জন্য গাছিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে একটি গাছ থেকে পুরো মৌসুমে প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত গুড় পাওয়া সম্ভব।
এদিকে বাদুড়ের মাধ্যমে কাঁচা খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকতে বলছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মো. মনজুর রহমান বলেন, রস ভালোভাবে ফুটিয়ে বা জ্বাল দিয়ে তবেই খেতে হবে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের নাটোর সংবাদদাতা।
ছবি: যশোরে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি, NIslamPhoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)