দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট আর চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বাজারে নতুন ধানের খড়ের প্রতিটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়; খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
উপজেলায় ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার আছে। খামারিদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও দুধ বা গরুর বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনি, তাই লাভ কমে যাচ্ছে। এভাবে চললে ছোট উদ্যোক্তারা গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন।
দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল জানান, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় মিলত, এখন প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। তাঁর কথায়, নিয়মিত খাবার না দিলে দুধ কমে যায়, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনছেন।
দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার হতো, এখন তাতে অনেক কম পাওয়া যায়; সংসারের খরচের পাশাপাশি গরুর খাবারের টাকা জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
খামারিরা মনে করিয়ে দেন, খরচ শুধু খড়-ভুসিতে নয়; খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যাও আছে। খরচ সামলাতে খাবারের পরিমাণ বা মান কমালে পশুর পুষ্টিতে ঘাটতি হয়, তাতে ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, শুধু খড় দিলেই চলবে না, সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি ও প্রয়োজনমতো সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন, আর মৌসুমে খড় সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় চাপ কিছুটা কমে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের দিনাজপুর সংবাদদাতা।
ছবি: ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছেন এক কৃষক, পেছনে খড়ের গাদা, A S M Jobaer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)