শরতে জন্মানো বাছুর খামারে আসছে, আর দিনে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে রাতে ৪ ডিগ্রির নিচে নামা তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতায় বাছুরের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, আয়ারল্যান্ড থেকে জানিয়েছে অ্যাগ্রিল্যান্ড।
অল্পবয়সী বাছুরের সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার একটি নিউমোনিয়া, ১০ মাসের কম বয়সী বাছুরের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণও এটি; জন্মানো সব বাছুরের ৩ শতাংশ এতে মারা যায়। যারা বেঁচে যায়, তাদের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম: ওজন বাড়া কমে, প্রথম দুধ দেওয়ার সময় দুধও কমে, আর অল্প বয়সে নিউমোনিয়া হওয়া ১৪ শতাংশ পশু সেই পর্যায়েই পৌঁছায় না।
রোগটির কারণ অনেক: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, কম শালদুধ পাওয়া, অপরিচ্ছন্নতা, বাতাস চলাচলের অভাব, গাদাগাদি করে রাখা এবং বোভাইন ভাইরাল ডায়রিয়া। সংক্রমণের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নিউমোনিয়া হতে পারে, তারপর বাছুর দ্রুত খারাপ হয়। প্রথম লক্ষণ খাওয়া কমে যাওয়া, কাশি, জ্বর, কান ঝুলে পড়া ও পেট বসে যাওয়া; শ্বাস দ্রুত হওয়া এবং চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া দেখা দিলে বুঝতে হবে সংক্রমণ অনেক এগিয়ে গেছে।
অ্যান্টিবায়োটিক অনেক সময় কাজ করে না, তাই প্রতিরোধই আসল। জন্মের মুহূর্ত থেকে পরিচ্ছন্নতা, জন্মের পরপর যথেষ্ট ভালো মানের শালদুধ ("১, ২, ৩" নিয়ম মেনে) এবং প্রথম চার-পাঁচ দিন শালদুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া জরুরি। বাছুরের ঘরে প্রচুর বাতাস চলাচল দরকার কিন্তু সরাসরি ঠান্ডা হাওয়া নয়, সঙ্গে ভালো বিছানাসহ শুকনো শোয়ার জায়গা, যেখান থেকে তরল বর্জ্য সহজে সরে যায়।
খোঁয়াড়ে গাদাগাদি করা যাবে না, আর চাপ কমাতে বয়স ও আকার অনুযায়ী বাছুরদের দলে ভাগ করে রাখতে হবে। প্রতিবেদনে টিকার কর্মসূচিরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: দুই সপ্তাহ বয়সের পর প্রথম ডোজ, চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, আর ঝুঁকির সময়ে বুস্টার।
ছবি: ŠJů (calves at Veliš, Czech Republic) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)