সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবীজির কাছে অভিযোগ করলেন, অন্য একজনের একটি খেজুরগাছ তাঁর বাগানে পড়েছে, ফলে তিনি প্রাচীর তুলতে পারছেন না। রাসুল (সা.) গাছের মালিককে বললেন গাছটি দিয়ে দিতে, বিনিময়ে বেহেশতে একটি খেজুরগাছ পাবেন। লোকটি রাজি হলেন না।
খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন সাহাবি আবু দাহদাহ (রা.)। তিনি গাছের মালিককে নিজের একটি বাগানের বিনিময়ে গাছটি বিক্রি করতে বললেন, আর মালিক রাজি হলেন। বাগান বুঝিয়ে দিয়ে গাছটি নিয়ে তিনি নবীজিকে জানালেন, গাছটি এখন প্রাচীর নির্মাণকারী ব্যক্তিকে দিয়ে দিতে চান।
শুনে রাসুল (সা.) একাধিকবার বললেন, ‘আবু দাহদাহর জন্য বেহেশতে কত ঝুলন্ত ফলভর্তি খেজুরের ছড়া রয়েছে!’ বাড়ি ফিরে আবু দাহদাহ স্ত্রীকে বললেন, ‘হে উম্মে দাহদাহ, বাগান থেকে বেরিয়ে এসো, আমি এটি বেহেশতের একটি খেজুরগাছের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছি।’ স্ত্রী উত্তর দিলেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যবসা লাভজনক হয়েছে।’
লেখকের মতে, ঘটনার পেছনে ছিল পরকালের প্রতি বিশ্বাস আর অন্যের উপকারের আগ্রহ। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কখনোই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২) আবু দাহদাহর ঘটনা সেই নীতির বাস্তব প্রতিফলন।
বসবাসের বাগান হাতছাড়া হলেও স্ত্রী একে ক্ষতি হিসেবে দেখেননি; লেখক একে দাম্পত্যে নেক সিদ্ধান্তে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত বলেছেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ঘটনা সব সম্পদ ত্যাগের সাধারণ নির্দেশ নয়; শিক্ষা হলো সম্পদ যেন মানুষের কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে বাধা না হয়, আর সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
হাদিসের সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১২৪৮২; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৭১৫৯। লেখক: নাহিদা সুলতানা, আলেমা ও প্রাবন্ধিক।
ছবি: খেজুরগাছ (Phoenix dactylifera), MPF / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)