প্রাক্-ইসলামি আরবে কবিদের প্রতাপ ছিল বিরাট: একটি প্রশংসার কবিতা কোনো গোত্রকে শীর্ষে তুলত, একটি ব্যঙ্গ কবিতা কারও জীবন দুর্বিষহ করত। এই কবিদের বড় অংশ মিথ্যাচার, অশ্লীলতা ও অহংকারের চর্চা করতেন। কোরআনে তাঁদের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘আর কবিদের অনুসরণ করে শুধু বিভ্রান্তরা।’ (সুরা শুআরা, আয়াত: ২২৪) অথচ রাসুল (সা.) হাসসান ইবনে সাবিতের মতো কবির জন্য মসজিদে নববিতে মিম্বর বানিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের ব্যাখ্যায়, এই সমালোচনা সব কবির জন্য নয়। জাহিলি যুগের যে কবিরা মূর্তিপূজার গুণ গাইতেন, ইসলাম ও মুসলিমদের ব্যঙ্গ করতেন এবং অর্থ ও গোত্রীয় অহংকারের জন্য যার-তার পক্ষে-বিপক্ষে লিখতেন, তাঁদেরই বিভ্রান্ত বলা হয়েছে। এ ব্যাখ্যার সূত্র ইবনে কাসিরের তাফসিরুল কুরআনিল আজিম।
কয়েক আয়াত পরেই কোরআন মুমিন কবিদের আলাদা করেছে: ‘তবে তারা ছাড়া, যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করেছে এবং অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিয়েছে।’ (সুরা শুআরা, আয়াত: ২২৭) ইমাম কুরতুবির মতে, কবিতা বা সাহিত্য কখনো নিষিদ্ধ নয়; মজলুমের অধিকার ও সত্য প্রতিষ্ঠার কাজে লাগলে তা ইবাদতের মর্যাদা পায়।
মক্কার কাফিররা কবিতায় অপপ্রচার শুরু করলে রাসুল (সা.) মদিনার কবিদের এগিয়ে আসতে বলেন। হাসসান ইবনে সাবিত, কাব ইবনে মালেক ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) ছিলেন নবীজির দরবারের শ্রেষ্ঠ তিন কবি। হাসসানকে তিনি বলতেন, ‘তুমি তাদের কবিতার মাধ্যমে জবাব দাও, জিবরাইল তোমার সঙ্গে আছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২১৩)
কবিতার শক্তি সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৪৫) ইবনে হাজার আল-আসকালানি লিখেছেন, কবিতা মানুষের সাধারণ কথার মতোই একটি মাধ্যম: বিষয় সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের দিকে ডাকলে তা উত্তম, অশ্লীলতা ও মিথ্যা ছড়ালে বর্জনীয়।
অর্থাৎ কোরআনের সমালোচনা মূলত শিল্পের নামে মিথ্যা ছড়ানো কবিদের বিরুদ্ধে, আর মুমিন কবিদের দেওয়া মর্যাদা সত্য ও কল্যাণের পক্ষে তাঁদের শৈল্পিক প্রতিবাদের স্বীকৃতি।
প্রতিবেদন: প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক।
ছবি: মদিনার মসজিদে নববি, Mondephile / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)