মসজিদ আল্লাহর নিদর্শন ও ইসলামের প্রতীক, আর কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই।’ (সুরা হজ: ৩২) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মসজিদ বানানো হয়েছে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ ও কোরআন পাঠের জন্য। (সহিহ মুসলিম: ২৮৫) দেশ রূপান্তরে এইচ এম মনিরুজ্জামান লিখেছেন, এই উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটায় এমন কাজ মসজিদে নিষিদ্ধ।
এর প্রথমটি উচ্চস্বরে কথা বলা। ইবনে মাজাহর (৭৫০) এক হাদিসে রাসুল (সা.) মসজিদকে অবুঝ শিশু ও পাগলদের থেকে দূরে রাখতে এবং কেনাবেচা, বিচার-আচার, উচ্চস্বর, দণ্ড দেওয়া ও তরবারি কোষমুক্ত করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। জামে তিরমিজির (২২১০, ২২১১) একটি দীর্ঘ হাদিসে মসজিদে চেঁচামেচি বেড়ে যাওয়াকে কেয়ামতের আলামতের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।
মসজিদে হারানো বা পাওয়া জিনিসের ঘোষণাও নিষেধ। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মসজিদে কেনাবেচা, হারানো বিজ্ঞপ্তি ও কবিতা আবৃত্তি নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৭৯) সহিহ মুসলিমের (৫৬৮) বর্ণনায়, কেউ মসজিদে হারানো বিজ্ঞপ্তি দিলে বলতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমার হারানো বস্তু ফিরিয়ে না দিক, কেননা মসজিদ এ জন্য বানানো হয়নি।’
লেখক জানিয়েছেন, আলেমরা উচ্চস্বরে জিকিরের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছেন: তাতে নামাজি, তেলাওয়াতকারী, অন্য ইবাদতকারী বা ইতেকাফকারীর ঘুমের ব্যাঘাত হলে সেটিও নিষিদ্ধ হবে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৬৩৯) জিকিরের বেলায় যদি এত সতর্কতা, সাধারণ কথাবার্তার বেলায় তা আরও বেশি প্রযোজ্য।
তবে নামাজ ও ইবাদতের জন্য মসজিদে গিয়ে অবসরে অন্যদের ব্যাঘাত না করে স্বাভাবিক স্বরে বৈধ পার্থিব কথা বলা জায়েজ। সহিহ মুসলিমের (৬৭০) বর্ণনায়, ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত রাসুল (সা.) নামাজের জায়গায় বসে থাকতেন, সাহাবিরা স্বাভাবিক স্বরে জাহেলি যুগের গল্প করে হাসতেন আর তিনি মুচকি হাসতেন। কেবল পার্থিব আলাপের উদ্দেশ্যে মসজিদে গিয়ে আসর জমানো অবশ্য নাজায়েজ। (রদ্দুল মুহতার: ১/৬৬২)
লেখক: এইচ এম মনিরুজ্জামান, দেশ রূপান্তর।
ছবি: ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)