উৎপাদন না কমিয়ে দুগ্ধবতী গাভির খাদ্যে নাইট্রোজেন কতটা কমানো যায়, তা পরীক্ষা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা, যাতে খাদ্যের খরচ বাঁচে এবং পুষ্টি উপাদানের অপচয় কমে, জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। কাজের নেতৃত্বে আছেন পোস্টডক্টরাল গবেষক আনন্দা পোর্তেলা ফন্তোরা, সঙ্গে দুগ্ধ পুষ্টি বিশেষজ্ঞ মাইকেল ভ্যান অ্যাম্বার্গ।
আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য থেকে গাভি বৃদ্ধি ও দুধের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন পায়, কিন্তু প্রয়োজনের বেশি খাওয়া নাইট্রোজেনের বড় অংশ প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এতে খামারির কেনা পুষ্টি অপচয় হয়, আর গোবর-চোনার গুদামে গিয়ে তা পরিবেশে ক্ষতির উৎস হয়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দলটি ১৪৪টি দুগ্ধবতী হলস্টেইন গাভিকে তিন ধরনের খাদ্য দিয়েছে, তিনটিতেই নাইট্রোজেন তুলনামূলক কম। দুটিতে ছিল আইসোঅ্যাসিড, যা রুমেনের অণুজীবের কাজে সহায়তা করে। দুধের পরিমাণ সব দলে প্রায় সমান থাকলেও আইসোঅ্যাসিড পাওয়া গাভি বেশি শক্তি-সমন্বিত দুধ এবং বেশি আমিষ ও ল্যাকটোজ দিয়েছে, অর্থাৎ লিটার না বাড়িয়েই দুধের মূল্যবান উপাদান বেড়েছে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে আইসোঅ্যাসিডযুক্ত খাদ্যে গাভিপ্রতি দিনে প্রায় ২২ সেন্ট বাড়তি লাভ দেখা গেছে, যা বড় খামারে উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে গবেষকদের মত। প্রাথমিক মডেলে দেখা গেছে, শক্তি-সমন্বিত দুধ বাড়লেও মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ সব দলে প্রায় একই, অর্থাৎ প্রতি একক দুধে পরিবেশগত বোঝা কমতে পারে।
দলটি এখন খামারি ও পুষ্টি পরামর্শকদের সঙ্গে খামারেই পরীক্ষা চালাচ্ছে, যাতে বাণিজ্যিক পরিস্থিতিতে উৎপাদন, খাদ্যের অর্থনীতি ও নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা মাপা যায় এবং আধুনিক গাভির খাদ্য নির্ধারণের পুষ্টি মডেল উন্নত হয়।
ছবি: Keith Weller, USDA (a Holstein-Friesian dairy cow) / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)