সরিষা চাষে নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে ইউরিয়ার বদলে সবুজ অ্যামোনিয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাইয়ে ভারতের হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে মাঠ প্রদর্শনী চলছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা খাতোধারা গ্রামে গিয়ে এই পরীক্ষা পরিদর্শন করেছেন।
কারা চালাচ্ছে: চৌধুরী চরণ সিং হরিয়ানা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিসিএস এইচএইউ, হিসার) অধীন মহেন্দ্রগড় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে)। প্রচলিত ইউরিয়াভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করে দেখা হচ্ছে ফসলের বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা, নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা ও আর্থিক লাভ। সবুজ অ্যামোনিয়া দেওয়ার পর বোনা খেতে প্রাথমিক পর্যায়ে চারা ভালোভাবে দাঁড়িয়েছে বলে দল দেখেছে।
কীভাবে কাজ করে: আইসিএআরের উপমহাপরিচালক (কৃষি সম্প্রসারণ) ড. রাজবীর সিং জানান, তরল অ্যামোনিয়ায় প্রায় ৮২ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে এবং বিশেষ যন্ত্র দিয়ে মাটির উপযুক্ত গভীরতায় তা দেওয়া হয়। এতে ফসলের জন্য নাইট্রোজেনের প্রাপ্যতা ও ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ে কি না, প্রদর্শনী তা দেখাবে। তিনি বিজ্ঞানীদের বৃদ্ধি, ফলন, সারের ব্যবহার, চাষের খরচ ও আয়ের নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক তথ্য দিতে বলেন।
আইসিএআরের উপমহাপরিচালক (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ড. এ. কে. নায়ক বলেন, উদ্দেশ্য হলো জেলার সরিষাচাষিদের জন্য কার্যকর, সাশ্রয়ী ও সম্পদ-দক্ষ নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনার উপায় খুঁজে বের করা। তিনি কৃষকদের কেভিকের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা ও চাহিদা আইসিএআর ও বিশ্ববিদ্যালয়কে জানাতে বলেন।
আইসিএআরের কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা ইনস্টিটিউট (জোন-২, যোধপুর) জানিয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতিতে ফলন ও আর্থিক সুবিধা মূল্যায়নের পর এই ফল ভবিষ্যতে সরিষার নাইট্রোজেন সুপারিশ তৈরিতে কাজে লাগবে।
ছবি: Nitin Das / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)