পাটের ফেলনা অংশ দিয়ে মাছের পুকুরের দুটি সমস্যার সমাধান দেখিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। পরিত্যক্ত পাটের বস্তা প্রক্রিয়াজাত করে তাঁরা বানিয়েছেন জুট জিওটেক্সটাইল, যা পুকুরের পাড়ভাঙা ঠেকায়; আর পাটকাঠি অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশে পুড়িয়ে তৈরি করেছেন বায়োচার, যা পানির অ্যামোনিয়াসহ বিষাক্ত পদার্থ শুষে পানির মান বাড়ায়। নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত ‘ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’-এ বিশ্বের ১১৯টি দলের মধ্যে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে প্রকল্পটি, জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।
দলের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে চারটি পুকুরে। প্রচলিত কৃত্রিম টেক্সটাইলের বদলে পুকুরপাড়ে বিছানো পাটের জিওটেক্সটাইল ছয় মাসের পরীক্ষায় পাড়ভাঙা রোধে সক্ষম প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। সাধারণত ফেলে দেওয়া বা জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো পাটকাঠি থেকে বায়োচার বানাতে তাঁরা নিজেদের নকশার একটি চুলাও তৈরি করেছেন।
আট সদস্যের দলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছয় শিক্ষার্থী: মোছা. মুর্শিদা জাহান মিতু, নুর আয়শা চৌধুরী, মো. আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাঁধন, সায়ফা সাবা হোসেন ও কুর্সি রহমান লুবা। অন্য দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানী তাকবীম এশা। দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান; কারিগরি সহায়তায় ছিলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর।
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব হয় ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমনিয়া ভবনে, যেখানে দলগুলো বাস্তবায়িত প্রকল্প উপস্থাপন করে এবং জুরি বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর দেয়।
দলের সদস্য নুর আয়শা চৌধুরী বলেন, লক্ষ্য ছিল পাট দিয়ে খাদ্যব্যবস্থায় নতুন উদ্ভাবন আনা, আর খাদ্যব্যবস্থা হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন মাছ চাষকে, কারণ নদীমাতৃক দেশে মাছ মানুষের পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। অতিবৃষ্টি, মাঠের কাজ আর ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ ও গবেষণাগারের বিশ্লেষণ চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, জানান তিনি।
মাছচাষির জন্য এর তাৎপর্য হলো, পুকুরপাড় রক্ষা আর পানির মান ঠিক রাখার উপকরণ দেশের পাট আর পাটকাঠি থেকেই আসতে পারে, যা এখন বেশির ভাগই ফেলে দেওয়া বা জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী।
ছবি: নরসিংদীতে পাটকাঠি শুকানো হচ্ছে। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)