গাভীর গর্ভধারণের জন্য অপরিহার্য বলে দীর্ঘদিন ধরে ধরে নেওয়া প্রোটিন ইন্টারফেরন টাউ (আইএফএনটি) ছাড়াও গর্ভধারণ সফল হতে পারে, নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে জানিয়েছেন জার্মানির লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় (এলএমইউ) মিউনিখের গবেষকেরা। আইএফএনটি তৈরি হয় প্রাথমিক ভ্রূণে, আর এটিকেই মায়ের শরীরকে গর্ভ ধরে রাখার মূল সংকেত মনে করা হতো।
এলএমইউয়ের জিন সেন্টারের পোস্টডক্টরাল গবেষক ড. আসগর আলী (Asghar Ali) ও আণবিক প্রাণী প্রজনন ও জৈবপ্রযুক্তির অধ্যাপক একহার্ড উলফের (Eckhard Wolf) নেতৃত্বে দলটি ক্রিসপার-ক্যাস৯ জিন সম্পাদনা দিয়ে গরুর কোষ থেকে আইএফএনটি জিনের সব কার্যকর কপি সরিয়ে ফেলে, সেই কোষ থেকে ক্লোন ভ্রূণ বানিয়ে গাভীর গর্ভে স্থাপন করে। ভ্রূণগুলো ব্যর্থ না হয়ে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে, গর্ভধারণ হয়, আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর আইএফএনটি জিনবিহীন দুটি সুস্থ বকনা বাছুর জন্মায়।
ড. আলী বলেন, তাঁরা দেখিয়েছেন গরুর ভ্রূণ ইন্টারফেরন টাউ তৈরি না করেও গর্ভধারণ ঘটিয়ে পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত বাড়তে পারে। জরায়ুতে স্বাভাবিক ইন্টারফেরন প্রতিক্রিয়া না থাকলেও গর্ভ টিকে ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় ভ্রূণ ও মায়ের মধ্যে যোগাযোগের অন্য পথ আছে।
একটি সম্ভাব্য উত্তর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ই২, যা গর্ভ ধরে রাখার হরমোন প্রোজেস্টেরন তৈরি করা ডিম্বাশয়ের কর্পাস লুটিয়ামকে টিকিয়ে রাখতে পারে; তবে তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। অধ্যাপক উলফ বলেন, এখনকার চ্যালেঞ্জ হলো গর্ভধারণ শুরু ও টিকিয়ে রাখার বিকল্প সংকেতগুলো খুঁজে বের করা।
গর্ভের শুরুতেই ভ্রূণ নষ্ট হওয়া বিশ্বজুড়ে দুগ্ধ ও মাংসের খামারিদের জন্য ব্যয়বহুল সমস্যা। গর্ভ টিকিয়ে রাখার সংকেত বোঝা গেলে ভবিষ্যতে গবাদিপশুর প্রজননক্ষমতা বাড়ানোর নতুন উপায় বের হতে পারে, বলছেন গবেষকেরা।
ছবি: ŠJů / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)