জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে সিলেট নগরে কুকুরের গণটিকাদান শুরু হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) অর্থায়নে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে ১৫ দিন ধরে প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়া হবে, আর টিকা পাওয়া কুকুরকে বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে, যাতে টিকা পাওয়া ও না পাওয়া কুকুর সহজে আলাদা করা যায়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মির্জাজাঙ্গালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ‘ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রাণী নিধনের সুযোগ এখন নেই; আগে কুকুরের উপদ্রব বাড়লে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কুকুর নিধন করত, এখন টিকাই কুকুর থেকে মানুষের জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পথ।
প্রশাসকের ভাষ্য, উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার পড়ে থাকা জায়গায় এবং বর্জ্য সরানোর আগের সময়টায় কুকুর বেশি জড়ো হয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকেও উপদ্রবের অভিযোগ এসেছে। তিনি সতর্ক করেন, টিকাদানে ঝুঁকি কমলেও কেউ কুকুরের কামড় খেলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে। কোনো এলাকায় উপদ্রব বেশি হলে সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জানাতে বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ মিলে এ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
উদ্বোধনে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, গণ-কুকুর টিকাদান বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলামসহ প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনটি নয়া দিগন্তের সিলেট প্রতিনিধির।
ছবি: কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন একজন পশুচিকিৎসক (প্রতীকী, পাপুয়া নিউগিনি)। ছবি: Bryan M. Ilyankoff, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: নয়া দিগন্ত




মন্তব্য
(০)