সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭১%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

এল নিনোর আগে চালের আঞ্চলিক মজুত ও স্থিতিশীল বাণিজ্যের ডাক আফ্রিকা-এশিয়ার নেতাদের

ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় বৈশ্বিক চাল নীতি সংলাপ শেষ হয়েছে পুরো মূল্যশৃঙ্খলে বিনিয়োগ, অনুমানযোগ্য বাণিজ্য, বাজার তথ্য ভাগাভাগি ও আঞ্চলিক চাল মজুত গড়ার আহ্বানে; শক্তিশালী এল নিনোর আগে বিশ্বে চালের জোগান কমে আসছে।

এল নিনোর আগে চালের আঞ্চলিক মজুত ও স্থিতিশীল বাণিজ্যের ডাক আফ্রিকা-এশিয়ার নেতাদের
ফসল

শক্তিশালী এল নিনোর আগে বিশ্বে চালের জোগান যখন টান পড়ছে, তখন আফ্রিকা ও এশিয়ার নেতারা চাল খাতের কৌশল কাগজ থেকে মাঠে নামানোর ডাক দিয়েছেন: পুরো মূল্যশৃঙ্খলে বেশি অর্থায়ন, অনুমানযোগ্য বাণিজ্য এবং আগাম সতর্কতাসহ আঞ্চলিক চাল মজুত। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ১৫ ও ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল রাইস পলিসি ডায়ালগ ২০২৬ (Global Rice Policy Dialogue 2026) এই আহ্বানে শেষ হয়।

সংলাপের যৌথ আয়োজক ছিল আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের কৃষি বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি, IRRI); সঙ্গে ছিল আফ্রিকারাইস, সিজিআইএআর-এর নীতি উদ্ভাবন কর্মসূচি ও ইথিওপিয়ার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২৫টি দেশের ৮০ জনের বেশি নীতিনির্ধারক, গবেষক, অর্থায়নকারী ও ব্যবসায়ী একমত হন যে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা বা শুধু আমদানি দিয়ে কোনো দেশ চালের জোগান নিশ্চিত করতে পারে না।

উদ্বেগের কারণ সংখ্যাতেই স্পষ্ট। চাল বছরে ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফসল, অথচ বিশ্ব উৎপাদনের মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বেচাকেনা হয়, আর সেই বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগায় পাঁচটি দেশ: ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া। আফ্রিকা বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন চাল আমদানি করে; সাব-সাহারান আফ্রিকা একাই আন্তর্জাতিক বাজারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাল কেনে, আমদানিতে মহাদেশটির খরচ বছরে ৬ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার। সেখানে উৎপাদন বছরে প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ছে, চাহিদা বাড়ছে প্রায় ৬ শতাংশ।

ইরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিশের মিরজাবায়েভ (Alisher Mirzabaev) সতর্ক করেন, তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম এ মৌসুমে বিশ্বে চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে কম হবে বলে প্রাক্কলন করা হচ্ছে। বিশ্বের মজুত বার্ষিক ব্যবহারের ৩৬ শতাংশ, যা দেখতে স্বস্তিকর; কিন্তু তার ৮২ শতাংশই ভারত ও চীনের হাতে, বাকি বিশ্বের জন্য অনুপাত মাত্র ১৩ শতাংশ। শক্তিশালী এল নিনো, জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি তেলের দাম আর দেশে দেশে সারের উচ্চমূল্য ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের রোপণ মৌসুমকে বিশেষ ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এজিআরএ ও সিজিআইএআর-এর বোর্ড চেয়ার এবং ইথিওপিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাইলেমারিয়াম দেসালেন বোশে উদাহরণ দেন তানজানিয়ার, যে দেশ তিন বছরে ধানি এলাকার সেচ বাজেট প্রায় নয় গুণ বাড়িয়ে এখন যত চাল খায় তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করে; উল্লেখ করেন নতুন ৫০ কোটি ডলারের পশ্চিম আফ্রিকা চাল বিনিয়োগ তহবিলের কথাও। তাঁর ভাষায়, "আফ্রিকার পরিকল্পনার অভাব নেই, সম্ভাবনারও অভাব নেই। দরকার বাস্তবায়নের শৃঙ্খলা।" আফ্রিকার ৩২টি দেশের ইতিমধ্যে জাতীয় ধান উন্নয়ন কৌশল আছে।

অংশগ্রহণকারীরা চালের বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন জলবায়ুর অভিঘাত ও পানির সংকট, তারপর কম উৎপাদনশীলতা এবং সার ও জ্বালানির খরচ। বিনিয়োগের অগ্রাধিকারে প্রথমে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, তারপর বীজব্যবস্থা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ এবং চালকল, সংরক্ষণ ও মান। আফ্রিকারাইসের মহাপরিচালক বাবুকার মান্নেহ জানান, আফ্রিকার ৮০ শতাংশের বেশি ধান বৃষ্টিনির্ভর; তিনি জলবায়ুসহিষ্ণু জাত, পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতি এবং সৌরচালিত সেচ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ভারত-চীনের বাইরে মজুত কম থাকার সতর্কবার্তাটিই নজরে রাখার বিষয়: সংলাপে ইথিওপিয়ার প্রতিনিধি যেমন বলেছেন, এক দেশের রপ্তানি, আমদানি ও সরকারি মজুতের সিদ্ধান্ত অন্য দেশের দাম ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে।

ছবি: lecucurbitacee (rice fields at Mto wa Mbu, Tanzania) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: IRRI

IRRIসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

কীটনাশকের বদলে পার্চিং: কাউনিয়ার আমন ক্ষেতে পোকা ধরছে পাখি

রংপুরের কাউনিয়ায় আমন ক্ষেতে ধইঞ্চা গাছ, ডাল ও বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পোকাখেকো পাখি বসানোর পার্চিং পদ্ধতিতে কীটনাশকের খরচ কমছে, বলছেন কৃষকেরা।

কৃষি সময়২৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

পানির অভাবে ফাটছে শ্যামনগরের আমন ক্ষেত, ২৫ শতাংশ জমিতে সংকট

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১৭ হাজার ৯ হেক্টরে আমন রোপণ হয়েছে; কৃষি অফিস বলছে অন্তত এক-চতুর্থাংশ জমিতে পানির সংকট, ফলন কমার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বাংলা নিউজ ২৪২৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কঠিন মৌসুম শেষে চারণভূমি ও খড়ের জমির হিসাব নেবেন যেভাবে

দক্ষিণ-পূর্ব ওহাইওতে খরা ও বন্যার পর এক চারণ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট পরামর্শ দিয়েছেন, আগামী বছরের সিদ্ধান্তের আগে চারণ পরিকল্পনা, প্যাডকের পুনরুদ্ধার, ঘাসের প্রজাতি ও পুনরায় বীজ বপন নিয়ে কোন প্রশ্নগুলো করা দরকার।

Farm and Dairy২৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)